দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বেতুড়া বাজারে আওয়ামী লীগ নেতার মদদে মাদ্রাসাশিক্ষকের জমি স্থানীয় কয়েকজন দখল করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জমির মালিক ও দিনাজপুর সদর উপজেলার আটর মোহাম্মদিয়া ফাজিল লাতক মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক এনামুল হক বলেন, ১৯৮৭ সালে উপজেলার বেতুড়া গ্রামের সোহরাব আলীর কাছ থেকে বেতুড়া বাজারে ১২৭ জেএল ১৩৯ খতিয়ানের ৪১৪ দাগের মোট ১ একর ৬৪ শতক জমি রেজিস্ট্রি দলিলমূলে কেনেন তিনি। পরে স্থানীয় তহশিল কার্যালয়ের মাধ্যমে তিনি নিজ নামে খারিজ করেন। চলতি বছর পর্যন্ত খাজনা পরিশোধও করেছেন। বর্তমান ভূমি জরিপে আট শতক জমি তাঁর নামে রেকর্ড হয়েছে।
এনামুল হক অভিযোগ করেন, তিন মাস আগে তিনি জমিটি প্রাচীর দিয়ে ঘিরতে গেলে জমি কেনার সময় ১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে দলিলে স্বাক্ষর দানকারী আবদুল মাজেদের ছেলে মঈনুল ইসলাম ও তাঁর তিন ভাই ওই জমির অংশবিশেষ দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে ২ এপ্রিল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে সালিস বৈঠক হয়। সালিসে থানার সহকারী উপপরিদর্শক মো. নূরুজ্জামানও উপস্থিত ছিলেন। সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি জমির পাশ দিয়ে ১৭ ফুট প্রশস্ত রাস্তা এবং এক শতক জমির বিনিময়ে বিরোধ সৃষ্টিকারী মঈনুলকে একটি দোকানঘরের জন্য ১০ ফুট জমি ছেড়ে দেন।
সাইদুর রহমান ও মো. নূরুজ্জামান সালিসের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এনামুল হক অভিযোগ করেন, সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি তাঁর ওই জমি পাকা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে নেন। কিন্তু বিরল থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রমাকান্ত রায়ের মদদে মঈনুল ইসলাম, তাঁর ভাই আবদুর রাজ্জাক, বাবুল হোসেন, সমিরুল এবং স্থানীয় আবদুস সালামসহ কয়েকজন ২০ জুন রাতের অন্ধকারে প্রাচীরের ভেতরে তাঁর জমিতে দুটি টিনের চালা ঘর নির্মাণ করেন। এ ছাড়া সেখানে থাকা তাঁর তিন হাজার ইট-বালু ও ২০ বস্তা সিমেন্ট সরিয়ে ফেলেন। এ ঘটনায় তিনি ১১ জনের বিরুদ্ধে ২৫ জুন বিরল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এনামুল হক আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনার আগে আওয়ামী লীগ নেতা রমাকান্ত রায় তাঁর কাছে এক শতক জমি দাবি করেছিলেন। তা দিতে অস্বীকার করায় তিনি মঈনুলকে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে জমি অপদখলের মিথ্যা অভিযোগ করান। ২৯ মে এ নিয়ে বিরল থানায় সালিস হয়। যেখানে রমাকান্ত রায় মঈনুলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু মঈনুল তাঁদের মালিকানার পক্ষে কোনো কাগজ দেখাতে না পারায় ১২ জুন সালিসের তারিখ পেছানো হয়। কিন্তু ওই দিন মঈনুল বা তাঁর ভাইরা থানায় না এসে ২০ জুন তাঁর জমিটি দখল করে নিয়েছেন।
মঈনুল বলেন, ওই জমিতে তাঁদেরও অংশ আছে।
জমির দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রমাকান্ত রায় বলেন, এনামুল হক যাঁর কাছ থেকে জমিটি কিনেছেন, প্রকৃতপক্ষে তিনি ওই পরিমাণ জমি পাবেন না। আর এ কারণেই জটিলতা দেখা দিয়েছে।
বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হাই সরকার মুঠোফোনে বলেন, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0