সাড়ে ৬১ কেজি সোনা উদ্ধার মামলা

আ.লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজউদ্দিন গ্রেপ্তার

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর পুরানা পল্টনের দুটি ফ্ল্যাট থেকে সাড়ে আট কোটি টাকার দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও সাড়ে ৬১ কেজি সোনা উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
রিয়াজউদ্দিন সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনকারী ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মাহফুজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চোরাচালানের সাড়ে ৬১ কেজি সোনা উদ্ধার হওয়ার পর থেকে রিয়াজউদ্দিন পলাতক ছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে তিনি উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় উঠেছেন—এমন খবরের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে ডিবি তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
পাঁচ বস্তা মুদ্রা, ৬১ কেজি সোনামাহফুজুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর শুল্ক গোয়েন্দা ও ডিবি পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে পুরানা পল্টনের একটি বহুতল ভবনের দুটি ফ্ল্যাট থেকে ৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকার দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও ৬১ কেজি ৫০০ গ্রাম সোনাসহ চোরাচালানির মূল হোতা এস কে মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন। তিনি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতা রিয়াজউদ্দিন সোনা চোরাচালানে তাঁর কাছে টাকা বিনিয়োগ করতেন। তদন্তেও তা বেরিয়ে এসেছে। তাঁদের ছয় সহযোগীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া ওই সোনার দাম ৩০ কোটি টাকার বেশি।
ডিবির সূত্র বলেছে, সাড়ে ৬১ কেজি সোনা ৫২৮টি বারে ছিল। সোনার বারগুলো বালিশের কভার, সোফার কুশনের ভেতর, জাজিম-তোশকের নিচে, আলমারি ও বাসার ফলস (কৃত্রিম) পাটাতনের ওপর কালো কাপড় সেলাই করে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। মোহাম্মদ আলী তাঁর ফ্ল্যাট দুটিতে সপরিবারে বসবাসের পাশাপাশি চোরাচালানের সোনা মজুত করতেন। মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তারের পর গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান রিয়াজউদ্দিন এই সোনার বারগুলো তাঁকে রাখতে দিয়েছেন। এ ঘটনায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তৎকালীন উপপরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেন। পরে এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবিকে।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, সোনা চোরাচালানের মূল হোতা মোহাম্মদ আলী নিজেকে রিয়াল এস্টেট, মানি এক্সচেঞ্জ ও মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী দাবি করলেও তদন্তে জানা গেছে তিনি রিহ্যাবের সদস্য নন। তিনি সোনা চোরাচালানে বিনিয়োগ করতেন। মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া থেকে আনা সোনা বিমানবন্দর হয়ে তাঁর কাছে পৌঁছাত। সোনার বারগুলো তিনি বাসায় মজুত করতেন। তাঁর মতো নয়জন চোরাচালানি তাঁদের লোক দিয়ে তাঁতীবাজারে সোনা বিক্রি করেন বা তাঁতীবাজারের সোনা চোরাচালানিদের মতো তাঁদের লোকও বেনাপোল, সোনামসজিদ, আখাউড়া ও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পাচার করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন