default-image

জামায়াতের কেন্দ্রীয় এক নেতার জানাজায় ছাত্র শিবিরের আচমকা হামলায় ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মী আহত হয়েছে। আজ শনিবার জোহরের নামাজের পর চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাসে এই ঘটনা ঘটে। তবে কড়া পুলিশের পাহারায় কলেজ–সংলগ্ন মাঠে জামায়াত নেতার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী। আজ বাদ জোহর চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাস সংলগ্ন প্যারেড মাঠে জানাজার স্থান নির্ধারণ করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। জানাজায় অংশ নিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াত ও শিবিরের কয়েক হাজার নেতা–কর্মী জড়ো হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

প্রয়াত মুমিনুল হক চৌধুরী চট্টগ্রামের সাতকানিয়া–লোহাগাড়া থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাংসদ আবু রেজা মো. নেজামুদ্দিন নদভীর শ্বশুর। কিন্তু মুমিনুল হক চৌধুরী আমৃত্যু জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এই প্যারেড মাঠে জামায়াতের তৎকালীন আমির যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাজায় ইমামতি করেছিলেন মুমিনুল হক।

অবশ্য জানাজায় সাংসদ নদভী উপস্থিত ছিলেন না।

প্যারেড মাঠে জামায়াত নেতার জানাজার খবর জানাজানি হলে চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের দেড় শতাধিক নেতা–কর্মী ক্যাম্পাসের ভেতরে জড়ো হয়। তারা প্যারেড মাঠে জানাজা না করতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এক পর্যায়ে ছাত্র শিবিরের কিছু নেতা–কমী কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীর সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে আচমকা হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল চট্টগ্রাম কলেজের শেরে বাংলা হোস্টেলের সামনে এলে দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পুলিশ দ্রুত দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নেয়। এর মধ্যে মুখোশ পরা শিবির কর্মীরা ছাত্রলীগের কয়েকজনকে মারধর করে।

শিবিরের আচমকা হামলায় আহত হন ছাত্রলীগ কর্মী ও গণিত তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাফায়েত হোসেন, রাষ্ট্র বিজ্ঞান চতুর্থ বর্ষের মিনারুল হক, অর্থনীতি তৃতীয় বর্ষের সাইফুল ইসলাম, উদ্ভিদ বিদ্যা প্রথম বর্ষের গোবিন্দ দত্ত ও ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্র আকবর হোসেন। তাঁদের মধ্যে প্রথম দুজন চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসা নেন। অন্য তিনজন কলেজের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে যান।

চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, প্যারেড মাঠে জামায়াত নেতার জানাজার অনুমতি দেওয়ার আগে আমাদেরকে কিছু বলা হয়নি। ওরা জানাজার নামে আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। প্রশাসন কেন অনুমতি দিল তা বোধগম্য নয়। মাহমুদুল আরও বলেন, শিবিরের মুখোশ পরা ছেলেদের হামলায় আমাদের পাঁচজন আহত হয়েছে। ওরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে জড়ো হয়েছিল।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগের সাংসদ নদভীর শ্বশুর ও জামায়াত নেতা মুমিনুল হক চৌধুরীর জানাজাকে ঘিরে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে ছাত্রলীগ। তারা প্যারেড মাঠে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে শিবিরের ছেলেদের সঙ্গে ছাত্রলীগের ছেলেদের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে আচমকা হামলায় ছাত্রলীগের দু–তিনজন আহত হন। তবে পুলিশ প্রস্তুত থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

ওসি নিজাম আরও বলেন, মুমিনুল হক চৌধুরীর জানাজা কয়েক মিনিটের মধ্যে শেষ হলে প্যারেড মাঠ ফাঁকা হয়ে যায়। ফলে আধা ঘণ্টার মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0