default-image

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাংগা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লোহার সেতুর পুরোনো মালামাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় লোকজন সেতুর মালামালসহ ইস্রাফিল ইসলাম শেখ নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন। ইস্রাফিল বলছেন, তিনি মাটিভাংগা ইউপির চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনের কাছ থেকে ওই মালামাল কিনেছেন।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাটিভাংগা ইউনিয়নের মধ্যবানিয়ারি গ্রামের অজয় মণ্ডলের বাড়ির কাছে খালের ওপর ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে একটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। নতুন করে সেতু নির্মাণ হওয়ায় ওই খালের ওপরের পুরোনো লোহার সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়। ভেঙে ফেলা সেতুর মালামাল স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে রাখেন। শুক্রবার সকালে বেলায়েত হোসেন ভাঙারি ব্যবসায়ী ইস্রাফিলের কাছে সেতুর ৮৮০ কেজি লোহা ২২ টাকা দরে ১৯ হাজার ৩৬০ টাকায় বিক্রি করেন। পরে ওই মালামাল নছিমনে করে নিয়ে যাওয়ার সময় উপজেলার ভাইজোড়া এলাকার লোকজন ইস্রাফিলকে আটক করেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে যান। এরপর ভাঙারি ব্যবসায়ী ইস্রাফিলকে মালামালসহ আটক করে থানায় নিয়ে যান তাঁরা।

ইস্রাফিল ইসলাম শেখ বলেন, ‘সকালে চেয়ারম্যান সেতুর পুরোনো লোহা আমার কাছে বিক্রি করেন। আমি কেনা মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় লোকজন আমাকে আটক করে।’
ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘সেতুর পুরোনো মালামাল ইউনিয়ন পরিষদে ছিল। আমি বিক্রি করিনি। কে বিক্রি করছে, তা–ও জানি না। আমার প্রতিপক্ষ লোকজন আমাকে ফাঁসানোর জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন মিয়া বলেন, পুরোনো সেতুর মালামাল উপজেলা পরিষদের। ইউপি চেয়ারম্যান তা বিক্রি করতে পারেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, আটক ভাঙারি ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তিনি ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনের কাছ থেকে এই লোহা কিনেছেন। ভাঙারি ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0