বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের নাতারকান্দি গ্রামে গত শনিবার রাতে জেলে ননী সমদ্দারের বসতঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গতকাল রোববার থানায় একটি মামলা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন, ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাতারকান্দী গ্রামের জেলে ননী সমাদ্দারের সঙ্গে একই গ্রামের সোবাহান হাওলাদারের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। হারতা ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) গত শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এ নিয়ে এক সালিসি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক চলাকালে ননী সমাদ্দারের সঙ্গে সোবাহানের সমর্থক আলতাফ হোসেনের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় ননীর ওপর হামলা করেন আলতাফ। পরে ইউপি সদস্য কৃষ্ণ কান্ত বাড়ৈ সালিস অপমাননার অভিযোগে আলতাফকে মারধর করেন। এর জের ধরে আলতাফ ও তাঁর লোকজন সালিসকারীদের ওপর হামলা চালান। এ সময় ইউপি সদস্য ফারুক তালুকদার, কৃষ্ণ কান্ত বাড়ৈসহ চারজন আহত হন। এতে বৈঠক পণ্ড হয়ে যায়।
ঘটনার পর গত শনিবার রাত সাতটার দিকে ননী সমাদ্দারের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন আগুন নেভাতে এগিয়ে এলেও তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগে ওই ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। হারতা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান হরেন রায় জানান, সালিস বৈঠকে গন্ডগোলের পরপরই ওই বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে।
ননী সমাদ্দার অভিযোগ করেছেন, সালিস বৈঠকে হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় সোবাহান ও আলতাফ হামলা চালিয়ে সালিস পণ্ড করে দেন। এ ছাড়া জমি দখল নিতে সোবাহানের ছেলে কামরুল, রাজু ও রুবেলসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয়জন সন্ত্রাসী তাঁর বসতঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।
তবে সোবাহান, আলতাফ, কামরুল তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাঁদের জব্দ করতে এ মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় গতকাল ননী বাদী হয়ে থানায় নয়জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন