বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের সরকারি খাল দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করছেন তিন ব্যক্তি। এতে নৌযান চলাচল ও বোরোর সেচ ব্যাহত হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, খালটি ইউনিয়নের সাহেবের হাট শহীদ স্মরণিকা হতে মুন্সিরতাল্লুক পর্যন্ত বিস্তৃত। কারফা এলাকায় খাল দখল করে নির্মিত হচ্ছে ১০০ ফুট দীর্ঘ দুটি দোকানঘর।
স্থানীয় তিনজন জানান, এলাকার সুব্রত মজুমদার, মো. ফিরোজ হাওলাদার ও কালু হাওলাদার খাল দখল করে ঘর নির্মাণ করছেন। বিত্তশালী হওয়ার পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে তাঁদের সখ্য রয়েছে। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না।
আবদুল জলিল, সিরাজউদ্দিন, আবদুল লতিফসহ পাঁচজন কৃষক বলেন, খালটির ওই এলাকায় কৃষকেরা সেচযন্ত্র বসিয়ে খালের দুই পাশে বোরো চাষ করে থাকেন। খালের পানির ওপর নির্ভর করে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমি চাষ করা হয়। খালের মধ্যে ঘর করায় খাল সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
সেচের অসুবিধার পাশাপাশি যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। উপজেলার বৃহৎ ব্যবসায়ী বন্দর হারতাসহ আশপাশের ব্যবসায়ীরা এ খাল দিয়ে নৌযানে মালামাল পরিবহন করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সোহরাব হোসেন সম্প্রতি বলেন, অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থাসহ উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা হবে।
অভিযুক্ত তিনজন দখলদার বলেন, তাঁরা ক্রয় করা জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করছেন। তবে উজিরপুর ভূমি কার্যালয়ের একজন সহকারী ভূমি উন্নয়ন কর্মকর্তা বলেন, কারফা মৌজার ১৪৩ নম্বর খতিয়ান ও ৭০৩ নম্বর দাগের ওই ৪০ শতাংশ জমি সরকারি খালের নামে রেকর্ড রয়েছে।
জল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উর্মিলা বাড়ৈ বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাল দখল করে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দোকান করায় এলাকার কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। খালটি দখলমুক্ত করার জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন