উত্তরায় বুধবার রাতে একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমানের (২৮) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টর থেকে তাঁকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।
পুলিশ ও আতিকুরের পারিবারিক সূত্র বলেছে, উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে অনন্ত গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার জ্যেষ্ঠ নির্বাহী আতিকুর রহমান ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদীর আমতলায় থাকতেন। বুধবার রাত ১১টার দিকে উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের হাউস বিল্ডিংয়ের সামনে থেকে আহত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাত সোয়া ১১টার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত সোয়া একটায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর কপালে ছিদ্র ও দুই হাঁটুতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ কারণে পরিবার এ মৃত্যুকে রহস্যজনক মনে করছে।
আতিকুর মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন। এক বছর আগে তিনি বিয়ে করেছিলেন। তাঁর স্ত্রীর নাম জেসমিন আক্তার।
জেসমিন আক্তার গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, কর্মস্থল থেকে প্রতিদিন আতিকুরের বাসায় ফিরতে রাত হতো। বুধবার রাতে দেরি দেখে তিনি বারবার মুঠোফোনে ফোন দিয়েও স্বামীর সাড়া পাচ্ছিলেন না। রাত সাড়ে ১০টার পর এক পথচারী স্বামীর মুঠোফোন থেকে ফোন দিয়ে তাঁকে বলেন, তাঁর স্বামী রিকশা থেকে পড়ে গেছেন। পরে ওই পথচারী তাঁকে উত্তরার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করেই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, তাঁর স্বামীর কাছ থেকে কিছু খোয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তাঁরা মৃত্যুর কারণ জানতে পারবেন।
উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বকর মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, আতিকুর রিকশা থেকে পড়ে কপালে ও পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন বলে তাঁরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন