এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ পেয়ে প্রধান শিক্ষক ছেলেটিকে নিজ কক্ষে ডেকে গত রোববার সকালে থাপ্পড় মেরে শাসন করেন। এতে ক্ষুব্ধ ও অপমানিত ছেলেটি বিকেলে বিদ্যালয় ছুটির পর প্রকাশ্যে কীটনাশক পান করে। পরে রাতে হাসপাতালে সে মারা যায়।

ছেলেটির নাম মো. হানিফ। সে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর পপুলার উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। উপজেলার খিদিরপুর গ্রামের মিজান তালুকদারের ছেলে হানিফ। একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রে​িণর এক ছাত্রী তার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই ছাত্রীকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত হানিফ। গতকাল সকালেও বিদ্যালয়ে আসার পথে হানিফ তাকে উত্ত্যক্ত করে। পরে মেয়েটি প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদকে বিষয়টি জানায়। তিনি হানিফকে নিজ কক্ষে ডেকে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন।

হানিফের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক থাপ্পড় মারায় হানিফ অত্যন্ত অপমানিত বোধ করে। ক্ষুব্ধ হানিফ টিফিনের সময় বন্ধুদের জানায়, সে বিষ খাবে। বিকেলে বিদ্যালয় ছুটির পর বন্ধুদের সামনেই সে আকস্মিক পকেট থেকে একটি কীটনাশকের বোতল বের করে তা মুখে ঢেলে দেয়। এর পর পরই সে অচেতন হয়ে পড়ে। দ্রুত তাকে প্রথমে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাতে হানিফ মারা যায়।

হানিফের মা রানু বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে প্রধান শিক্ষক বেধড়ক পিটিয়েছেন। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে হানিফ বিষ পান করে। ছেলের মৃত্যুর জন্য তিনি প্রধান শিক্ষককেই দায়ী করেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে সহকারী শিক্ষক মোস্তফা কামাল বলেন, ছেলেটি প্রায়ই মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করত। গতকালও করে। তাই প্রধান শিক্ষক তাকে শাসন করেছেন। পরে ওই ছাত্র বিষপান করে। এ জন্য শিক্ষকেরা দায়ী নন।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ কে এম মাহাবুবুর রহমান বলেন, ছেলেটি কীটনাশক পান করে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চাঁদপুর পাঠানো হয়।

মতলব দক্ষিণ থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। এ ব্যাপারে মামলা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন