সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশি ১৬ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পাচার করা অর্থ ঢাকায় এইচএসবিসির মাধ্যমে গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)।
ঢাকায় এইচএসবিসির কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে এ কথা জানান।
সূত্র জানায়, বৈঠকে এইচএসবিসির চারজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে এইচএসবিসির কর্মকর্তারা তাঁদের কাছে অর্থ পাচারের কোনো তথ্য নেই বলে উল্লেখ করেন।
মাহফুজুর রহমান বলেন, সুইজারল্যান্ডের এইচএসবিসিতে বাংলাদেশিদের অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে না প্রবাসীদের টাকা সেখানে ঢুকেছে, বিষয়টিও পরিষ্কার নয়। যে কারণে সুইজারল্যান্ডের এফআইইউর কাছে তথ্যগুলো চাওয়া হবে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক হংকং-সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের (এইচএসবিসি) মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী যে ১১ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার পাচার হওয়ার তথ্য গত কয়েক দিনে বিশ্বব্যাপী প্রধান প্রধান গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তাতে বাংলাদেশিদের অর্থ পাচারের তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশি ১৬ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সুইজারল্যান্ডের এইচএসবিসিতে ১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০১ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৭৭.৮৩ টাকা ধরে) পাচার করে বলে গণমাধ্যমগুলো প্রকাশ করে। যার মধ্যে একটি হিসাবেই বাংলাদেশির পাচার করা অর্থের পরিমাণ ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার বা ৩৪ কোটি টাকা।
২০৩টি দেশের ১ লাখ ৬ হাজার ব্যাংক হিসাবের তথ্য বিশ্লেষণ করে গত সোমবার দেশভিত্তিক একটি তালিকা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সাংবাদিক কসসোর্টিয়াম (আইসিআইজে)। বিভিন্ন দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ হিসাব করে এ তালিকা করা হয়েছে। এ তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৮।
এইচএসবিসির সাবেক কর্মকর্তা হার্ভি ফ্যালসিয়ানি ২০০৮ সালে ফ্রান্স সরকারের কাছে প্রথম তথ্যগুলো ফাঁস করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির কর কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ৯৯ দশমিক ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই কর ফাঁকি দিয়ে টাকা পাচারের ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন