default-image

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে এক পরিবারের সবাইকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চর চান্দিয়া ইউনিয়নে শনিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে আবু ইউসুফ (৭৫), তাঁর স্ত্রী আসিয়া খাতুন (৬০), ছেলে আবু বকর, তাঁর স্ত্রী শিরিন আক্তার, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মিতু আক্তারসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতে কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা কৌশলে তাঁদের ঘরে ঢুকে পড়ে।

আবু ইউসুফের ছোট ছেলে নাছির উদ্দিন বলেন, অন্য একটি ঘরে ঘুমানোর কারণে তিনি দুর্বৃত্তের হাতে অচেতন হওয়ার থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তিনিই রাতের কোনো একসময় মায়ের চিৎকার শুনতে পান। এরপর দৌড়ে মায়ের কাছে গেলে বাকি ঘটনা জানতে পারেন।

মায়ের বরাত দিয়ে নাছির উদ্দিন বলেন, তাঁরা ঘুমিয়ে যাওয়ার পর রাতে হঠাৎ গোয়ালে গরু ডাকতে থাকে। এতে তাঁর বাবা ইউসুফ ঘর থেকে বেরিয়ে গোয়ালে যান। এ সময় পেছন থেকে কয়েকজন লোক ইউসুফের মুখ চেপে ধরে নাকে কিছু একটা ছিটিয়ে দেয়। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর পরিবারের অন্যান্য কক্ষে গিয়ে সবাইকে একই ভাবে অচেতন করে ফেলে দুর্বৃত্তরা। পরে দুর্বৃত্তরা ঘরে থাকা আট ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে।

নাছির বলেন, একপর্যায়ে তাঁর মায়ের চেতনা ফিরে আসে। তখন তিনি চিৎকার শুরু করেন। মায়ের চিৎকার শুনে নাছির ও অন্য প্রতিবেশীরা ছুটে যান। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় পরিবারের সদস্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়ি পাঠানো হয়। তবে আবু ইউসুফ ও আবু বকরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের দুজনকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবু বকরের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বাবা এখনো অচেতন। তিনিও সুস্থ নন। তবে ডাক্তার যদি বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেন, তাহলে তিনি থানায় যাবেন ও এই ঘটনায় মামলা করবেন।

চর চান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অসুস্থ সবাই তাঁর আত্মীয়। এর আগেও তাঁর ইউনিয়নের কয়েক বাড়িতে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈন উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে ও কারা ঘটিয়েছে, পুলিশ সেসব তদন্ত করে দেখবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন