এটিএম কার্ড জালিয়াতি

এক বছরে কিছুই খুঁজে পায়নি পুলিশ

বিজ্ঞাপন
default-image

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিনের (এটিএম) বুথ থেকে ইউক্রেনের নাগরিকেরা কী প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করে টাকা তুলেছিলেন, এক বছরের বেশি সময়ে তা জানা যায়নি। গ্রেপ্তার হওয়া ছয় ইউক্রেনিয়ানের বাইরে আর কেউ জড়িত কি না, তা–ও শনাক্ত হয়নি। এমনকি টাকা তোলার এই চক্রের পলাতক এক সদস্যের নাম–পরিচয় জানার পরও তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

গত বছরের ৩১ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের রাজধানীর বাড্ডায় দুটি এটিএম বুথ থেকে দুই ইউক্রেনীয় নাগরিক বিভিন্ন কার্ড ব্যবহার করে একাধিকবার টাকা তোলেন। পরদিন বুথের টাকার হিসাব মেলানোর সময় তিন লাখ টাকা কম হয়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দুই বিদেশির টাকা তোলার বিষয়ে নিশ্চিত হয়। এরপর সব এটিএম বুথে নিরাপত্তা বাড়ায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ১ জুন রাতেই খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় ডাচ্-বাংলার এটিএমে টাকা চুরি করতে গেলে দুই বিদেশির একজন ধরা পড়েন। পরে আরও পাঁচ বিদেশিকে পান্থপথের হোটেল ওলিও থেকে আটক করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত বছরের ৩১ মে বাড্ডায় দুটি এটিএম বুথ থেকে দুই ইউক্রেনীয় নাগরিক বিভিন্ন কার্ড ব্যবহার করে একাধিকবার টাকা তোলেন।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জন, পলাতক একজন এবং ‘অজ্ঞাতনামা দেশি–বিদেশি সংঘবদ্ধ’ চক্রের বিরুদ্ধে খিলগাঁও মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের অলটারনেট ডেলিভারি চ্যানেলের প্রধান মো. মশিউর রহমান। গ্রেপ্তার ইউক্রেনীয় নাগরিকদের কাছ থেকে ২৭টির মতো কার্ড পাওয়া যায়, যার অধিকাংশতেই ‘ডিসকাউন্ট’ লেখা ছিল। এরপর এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে পুলিশের কোনো অগ্রগতি নেই। এই পরিস্থিতির মধ্যেই গ্রেপ্তার ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের খিলগাঁও জোনাল টিম।

গ্রেপ্তার হওয়া ইউক্রেনীয়দের রিমান্ডে এনে তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। কিন্তু জালিয়াতির বিষয়ে তাঁরা কোনো কথাই বলেননি।
আরিফুর রহমান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা

সাধারণত এটিএম বুথ থেকে প্রতিবার টাকা উত্তোলনের সময় কয়েক ধরনের তথ্য ব্যাংকের সার্ভারে জমা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকের হিসাব নম্বর, টাকা উত্তোলনের সময়, উত্তোলনের পৃথক নম্বর, টাকার পরিমাণ ও অবশিষ্ট টাকার তথ্য। টাকা উত্তোলনের সময় গ্রাহক নিজেও এসব তথ্যসংবলিত রসিদ পেয়ে থাকেন। ব্যাংকগুলো এসব তথ্য এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করে। কারণ, এটিএমে টাকা উত্তোলনসংক্রান্ত অনেক অভিযোগ আসে, যাতে অভিযোগগুলো যাচাই করা যায়। কিন্তু ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এ ঘটনায় এটিএম বুথ থেকে ব্যাংকটির সার্ভারে বিদেশিদের টাকা উত্তোলনের কোনো তথ্য যায়নি বলে জালিয়াতির পরপরই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। এ অবস্থায় কী প্রক্রিয়ায় ইউক্রেনের এই নাগরিকেরা জালিয়াতি করেছিলেন, সেটি জানাই ছিল তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, জালিয়াতিটি কী প্রক্রিয়ায় হয়েছে, তা জানার জন্য এটিএম যন্ত্রের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনসিআর করপোরেশন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তাঁরা। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জব্দ করা কার্ডের ফরেনসিক পরীক্ষা করেছে। কিন্তু কেউই জালিয়াতির প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো ধারণা দিতে পারেনি।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ইউক্রেনের ছয় নাগরিক হলেন দেনিস ভিতোমস্কি (২০), নাজারি ভজনোক (১৯), ভালেনতিন সোকোলোভস্কি (৩৭), সের্গেই উইক্রাইনেৎস (৩৩), শেভচুক আলেগ (৪৬) ও ভালোদিমির ত্রিশেনস্কি (৩৭)। এ ছাড়া ভিতালি ক্লিমচুক (৩১) নামের আরেকজন পলাতক। এই ভিতালি ১ জুন রাতে খিলগাঁও তালতলা এলাকার ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে প্রথম গ্রেপ্তার হওয়া দেনিস ভিতোমস্কির সঙ্গে ছিলেন। বুথের নিরাপত্তাকর্মী এবং আশপাশের লোকজন ধাওয়া করলে ভিতালি দৌড়ে পালিয়ে যান। তাঁর পাসপোর্ট জব্দ করা হয় গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের কাছ থেকে। কিন্তু ভিতালি কোথায় গেলেন, তিনি দেশে আছেন নাকি পালিয়ে গেছেন, তার কিছুই পুলিশ জানতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাতজনের এই চক্র শনাক্ত হওয়ার কিছুদিন পরই ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের র‌্যাডিসনের এটিএম বুথ থেকেও চারজন ইউক্রেনিয়ান নাগরিক টাকা তুলে নিয়েছিলেন বলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হয় পুলিশ। সেই চক্রও শনাক্ত হয়নি এক বছরের তদন্তে।

তদন্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ইউক্রেনীয়দের রিমান্ডে এনে তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। কিন্তু জালিয়াতির বিষয়ে তাঁরা কোনো কথাই বলেননি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন