default-image

মতিঝিল এজিবি কলোনিতে সড়ক দখল করে গড়ে তোলা ১৩৪টি অবৈধ দোকানের মধ্যে ২০টি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কলোনি বাজারে এই উচ্ছেদ অভিযান চালায়। উচ্ছেদের সময় দোকান নির্মাণকারীরা তাঁদের সপক্ষে কাগজপত্র দেখিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযানকারীরা হাইকোর্টের রায়ের কপি দেখিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেন।
৩ মে মঙ্গলবার হাইকোর্ট থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এজিবি কলোনির দোকানগুলো উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে রিট আবেদনকারীর পক্ষের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রেদওয়ান আহমেদ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মুহাম্মদ বিলাল এবং সম্পত্তি কর্মকর্তা খালেদ মাহমুদকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যদি তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতের নির্দেশ পালন না করেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার অভিযান চালানো হয়।
এজিবি কলোনিতে দোকানঘর নির্মাণের ওপর ১৩ এপ্রিল নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। কিন্তু তড়িঘড়ি করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব দোকানের কাজ শেষ করেন। গত ২০ মার্চ প্রথম আলোতে ‘সড়ক দখল করে ২০০ দোকান’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এলাকাবাসীর পক্ষে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়।
পশ্চিম রাজারবাগ মৌজার মানচিত্র থেকে জানা যায়, সড়কটি ৭৮ ফুট চওড়া এবং ৬০০ ফুট দীর্ঘ। মানচিত্রে সড়কটির নাম ‘মিডওয়েল সার্কুলার রোড’। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সড়কটি চওড়ায় ৪০ ফুটের মতো। সড়কের বাকি অংশে দোকানগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার পুলিশের সহায়তায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অভিযান চালাতে গেলে দোকান নির্মাণকারীরাসহ এর সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীরা বলেন, অসচ্ছল দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতি কাঁচাবাজারের দোকানগুলো নির্মাণ করেছে। তবে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে হাইকোর্টের নোটিশ দেখানো হলে তাঁরা পিছিয়ে যান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এজিবি কলোনির পূর্ব দিকের সড়ক প্রান্ত থেকে দোকান ভাঙার কাজ শুরু হয়। বিকেল পাঁচটার মধ্যে ২০টির মতো দোকান উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, অসচ্ছল দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা ওই সমিতির সদস্য বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে তাঁদের কমসংখ্যকই সেখানে দোকান বরাদ্দ পান। গতকাল শুক্রবার এলাকায় গিয়ে জানা যায়, ১৬ মার্চ এজিবি কলোনিতে দোকান নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে কিছু দোকান বিক্রি ও কিছু ভাড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। একেকটি দোকান বিক্রি হয় ছয় থেকে আট লাখ টাকায়। কিছু দোকান মাসে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা ও কিছু দোকান দৈনিক ২০০ টাকা করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি মুরগির দোকান চালু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন