দুই হাত প্রসারিত করে বিক্রেতা বিছানার চাদর মেলে ধরেছে। কাপড়ের বহর (প্রস্থ) কত গজ, রং টিকবে কি না, তা ঠিকমতো যাচাই করছে ক্রেতা। চলছে দরদাম। পাশ দিয়ে হেঁটে চলা পথচারীর কাছে ক্রেতা-বিক্রেতার এই আলাপন নিতান্তই ‘নির্দোষ’ মনে হতে পারে। কিন্তু মেলে ধরা চাদরের আড়ালে পেছনে বন্ধ থাকা দোকানটি ততক্ষণে চুরি হয়ে গেছে!
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া, ইপিজেড, রাউজানসহ বিভিন্ন স্থানে ৪০টির বেশি দোকানে দিনের বেলায় কয়েক মাস ধরে এমন অভিনব কায়দায় চুরি করেছে একটি চক্র। সর্বশেষ গত বুধবারও চকবাজার এলাকার একটি দোকানে চুরি হয়েছে। বিছানার চাদর ক্রেতা-বিক্রেতা সেজে চুরি করা একটি দলের আট সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশের কাছে এ তথ্য স্বীকার করেছে।
পুলিশ জানায়, নগরের বাকলিয়া এলাকায় গত বছরের ৩ ডিসেম্বর একটি ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকানে চুরি হয়। সেই দৃশ্য ধরা পড়ে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায়। ওই ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয় তাদের। এরপর অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে নগরের কল্পলোক আবাসিক এলাকা থেকে রুবেল, মাসুদ, কাশেম, জুয়েল, নবী, জসিম, লিটন ও সিরাজকে গ্রেপ্তার করে বাকলিয়া থানার পুলিশ। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
পুলিশ জানিয়েছে, যে এলাকায় যেদিন দোকান বা বিপণিবিতান বন্ধ থাকে, ওই এলাকাকে চুরির জন্য বেছে নিত গ্রেপ্তার হওয়া লোকেরা। ফুটপাতের পাশে বন্ধ থাকা কোনো দোকানের সামনে একজন ভ্রাম্যমাণ চাদর বিক্রেতা সেজে বসত। ক্রেতাও হতো তারা। বিক্রেতা দাঁড়িয়ে চাদর মেলে ধরত। দলের অন্য সদস্যরা বন্ধ থাকা দোকানের তালা ভেঙে টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে সরে যেত।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন প্রথম আলোকে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আটজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েক দিনের মধ্যে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। তিনি জানান, ছুটির দিনকে সাধারণত চুরির জন্য বেছে নিত তারা। অন্য সময় চোর চক্রের সদস্যদের কেউ রিকশা চালাত, কেউ দিনমজুরের কাজ করত।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন