মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেওয়ার অভিযোগ থেকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানকে অব্যাহতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার কমিশনের নিয়মিত সভায় তাঁকে অব্যাহতির বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয় বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।
ওয়াহিদুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যানও। গত ডিসেম্বরে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব থেকে তিনি অবসরে যান।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় ওয়াহিদুর রহমান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দেননি। চাকরির শেষ সময়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেন। সনদ ব্যবহার করে চাকরির মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হয়। তবে অভিযোগ আসে, ভুয়া তথ্য দিয়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন। এ অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা। পরে বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য দুদকে পাঠানো হয়। বিষয়টি আমলে নিয়ে গত বছরের অক্টোবরের শুরুর দিকে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করে দুদক।
সূত্র আরও জানায়, অনুসন্ধান শেষে নভেম্বরে অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারি প্রতিবেদন জমা দেন। এই অনুসন্ধান প্রতিবেদনে ওয়াহিদুর রহমান মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দুদককে দেখাতে পারেননি। এ কারণে তাঁর সনদ বাতিলের সুপারিশ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা।
তবে এই প্রতিবেদন গ্রহণ না করে আরও পর্যালোচনার জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. জুলফিকার আলীকে নতুন অনুসন্ধান কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয় কমিশন। তাঁর প্রতিবেদন পাওয়ার পর গতকাল কমিশনের সভায় অভিযোগটি নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তির অনুমোদন দেওয়া হয়।
সাবেক প্রতিমন্ত্রীর এপিএসের স্ত্রীর বিরুদ্ধেও মামলার অনুমোদন: জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়ার এপিএস সৌমেন্দ্র লাল চন্দ শৈলেনের স্ত্রী শান্তার বিরুদ্ধেও মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক। গতকাল কমিশন এ অনুমোদন দেয়। দুদকের উপপরিচালক কে এম মিছবাহ উদ্দিন রমনা থানায় মামলাটি করবেন বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, শান্তার নামে দেড় কোটি টাকার বেশি সম্পদ পাওয়া গেছে, যার কোনো বৈধ উৎস নেই।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় গত সপ্তাহে শৈলেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করে দুদক। এপিএস থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে ১ কোটি ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ২ জুন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন