স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণের অভিযোগ সঠিক বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। দুদকের ওই কর্মকর্তা ওয়াহিদুরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করেছিলেন।
সেই ওয়াহিদুর রহমানকেই দুদক সেই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আরেক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে।
দুদকের একজন অনুসন্ধান কর্মকর্তা তাঁর প্রতিবেদনে ওয়াহিদুর রহমানের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল ও তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করলেও কমিশন সেটা গ্রহণ করেনি। আরেক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয় পর্যালোচনার জন্য। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর আজ সোমবার কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে ওয়াহিদুর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়।
ওয়াহিদুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যানও। গত ডিসেম্বরে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব থেকে তিনি অবসরে যান।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় ওয়াহিদুর রহমান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা না দিলেও চাকরির শেষ সময়ে এসে মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণ করেন। সনদ ব্যবহার করে চাকরির মেয়াদ দুবছর বাড়ানো হয়। কিন্তু অভিযোগ আসে, ভুয়া তথ্য দিয়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণ করেছেন। এ অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা। পরে বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য দুদকে পাঠানো হলে বিষয়টি আমলে নিয়ে গত বছরের অক্টোবরের শুরুর দিকে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে তলব করা হলে ছাত্রলীগের পাহারায় দুদকে এসে তাদের পাহারায়ই দুদক ছাড়েন ওয়াহিদুর রহমান।
অনুসন্ধান শেষে গত বছরের নভেম্বরে অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের উপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারি প্রতিবেদন জমা দেন। দুদক সূত্র জানিয়েছে, ওয়াহিদুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েই মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন বলে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দুদককে দেখাতে পারেনি। তাই ওয়াহিদুর রহমানের সনদ বাতিলের সুপারিশ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করেন তিনি।
কিন্তু প্রতিবেদনটি গ্রহণ না করে আরও পর্যালোচনার জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. জুলফিকার আলীকে নতুন অনুসন্ধান কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয় কমিশন। তাঁর প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশনের সভায় অভিযোগটি নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তির অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন