উচ্চমাধ্যমিক পেরিয়ে সবে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছেন শারমিন সুলতানা (১৯)। গতকাল রোববার দুপুরে মায়ের সঙ্গে রিকশায় কলেজে যাচ্ছিলেন প্রথম দিনের ক্লাসে অংশ নিতে। পথেই তাঁদের রিকশার ওপরে ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তাতে পেটে-পিঠে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয় শারমিনের। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধের সমর্থনে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার এলাকায় গতকাল দুপুরে ঝটিকা মিছিল করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সেন্ট গ্রেগরি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে মিছিল থেকে কয়েকটি (৮-১০টির মতো) ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর একটি রিকশায় লেগে বিস্ফোরিত হলে শারমিন আহত হন।
এ ঘটনার পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আশরাফ মামুনকে আটক করেছে পুলিশ। সূত্রাপুর থানার ওসি খলিলুর রহমান মামুনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শারমিনের মা লিমা আক্তার বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পাসের পরে কয়েক দিন আগে কবি নজরুল কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকে (সম্মান) ভর্তি হন শারমিন। গতকাল ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল। এ জন্য দুপুরে সূত্রাপুরের ফরাশগঞ্জের বাগানবাড়ির বাসা থেকে মেয়েকে নিয়ে রিকশায় কলেজের উদ্দেশে বের হন তিনি। রিকশাটি সেন্ট গ্রেগরি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছাতেই কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে শারমিন গুরুতর আহত হন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি শারমিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনেন।
ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ককটেলের বিস্ফোরণে মেয়েটির পেটে-পিঠে গভীর কিছু ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। শরীর থেকে প্রচুর রক্ত বেরিয়ে গেছে। দুই দফায় মেয়েটির শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে আট ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন