কক্সবাজার শহরে চলছে পাহাড় কর্তন। পাহাড় কেটে তৈরি হচ্ছে ঘরবাড়ি।
গত শনিবার সকালে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে পূর্বলারপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, বিশাল দুটি পাহাড় থেকে মাটি কাটা হয়েছে। শহরের বাইপাস সড়কের কলাতলী রেস্টহাউসের পূর্ব পাশেও পাহাড় কাটা চলছে। পাহাড় কাটার মাটি দিয়ে ভবন তৈরির জন্য নিচু জমি ভরাট করা হচ্ছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, লারপাড়ার শাহাদাৎ হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি ৪০ জনের বেশি শ্রমিক দিয়ে পাহাড়ের মাটি কাটছেন। আর কলাতলী এলাকায় শ্রমিক দিয়ে পাহাড় কাটছেন স্থানীয় শ্রমিকনেতা চাঁদ মিয়া।
জানতে চাইলে শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘ঘর তৈরির জন্য পাহাড় কাটছি। শুধু আমি কেন, আমার আশপাশে অনেকেই পাহাড় কাটছে।’
চাঁদ মিয়া বলেন, তিনি দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে পাহাড় কাটছেন। ওই মাটি দিয়ে ইতিমধ্যে দুটি প্লট ভরাট করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ তাঁদের বাধা দিতে আসেনি।
লারপাড়া ও কলাতলীর কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, খাড়াভাবে ৬০-৭০ ফুট উঁচু পাহাড় কেটে ফেলায় ঝুঁকি বাড়ছে। এ ছাড়া পাহাড়ে তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য অবৈধ বসতি। সেগুলোও ঝুঁকিতে আছে।
ঝিলংজা বন বিট কর্মকর্তা শাহজাহান বলেন, পাহাড় কাটার খবর পেয়ে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে শ্রমিকেরা জঙ্গলে পালিয়ে যান। তিনি বলেন, লারপাড়া পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার পিএমখালী এলাকায় তিনটি পাহাড় কাটার ঘটনায় একটি ট্রাক জব্দ করে ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। লারপাড়া ও কলাতলীর পাহাড় নিধনকারীদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন