রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় চিকিৎসার নামে কবিরাজের অপচিকিৎসায় গোপীনাথপুর হায়দারীয়া দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের পল্লবী রানী (১৩) নামের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বাড়ি উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামে। সে ওই গ্রামের দিনমজুর মিলন চন্দ্রের মেয়ে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত বুধবার পল্লবী রানীর জ্বর আসে। এ অবস্থায় তার দরিদ্র বাবা-মা ওই ইউনিয়নের মুচিরহাট ঝলঝলিপাড়া গ্রামের কথিত কবিরাজ জগেশ চন্দ্র রায়কে বাড়িতে ডেকে আনেন। কবিরাজ পল্লবীকে দেখে বলেন, তাকে পঞ্চ দেবতা ধরেছে। ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে তাড়াতে হবে। এরপর কবিরাজ মেয়েটিকে চার দিন ধরে অপচিকিৎসা দেন। গত শুক্রবার মেয়েটির হাত-পা অবশ হয়ে যায়। এ অবস্থায় পরিবারের লোকজন মেয়েটিকে হাসপাতালে নিতে চাইলে কবিরাজ বলেন, ‘সমস্যা নেই, ঝাড়ফুঁকে ঠিক হয়ে যাবে, একটু সময় লাগবে।’
গত শনিবার মেয়েটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে রংপুরের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। এরপর ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত রোববার সন্ধ্যায় সেখানে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
মেয়ের মামা দুলাল রায় অভিযোগ করেন, ওই কবিরাজ দেবতা তাড়াতে পল্লবীর শরীরের ওপর পা তুলে পেষেন। তার চুল মুঠি করে ধরে টানাটানি করেন। মেয়ের বাবা মিলন চন্দ্র বলেন, ‘সবায় কছিলো তোমার বেটিক ভূত ধরছে। বাড়িত কবিরাজ ডাকে আনো। চাইর দিন কবিরাজ বেটির হাত-পাও, চুল ধরি টানাটানি করছে। পাও দিয়াও খচচে। বেটি ভালো হয় নাই। এরপর দেকি বেটির হাত-পাও ওঠে না। কবিরাজ কয় সমস্যা নাই, ঝাড়ফুঁকে ভালো হইবে। কিন্তুক বেটির অবস্থা খারাপ হইলে এলাকার মানুষের সহযোগিতায় রংপুর মেডিকোলোত ভর্তি করাই। পরেরদিন মারা গেইচে। ডাক্তার কইচে মেডিকেলে আনতে দেরি করছেন।’
কবিরাজের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন কি না—জানতে চাইলে মিলন চন্দ্র বলেন, ‘বেটি তো দুনিয়া থাকি চলি গেইচে। থানাত মামলা দিবার গেইলে টাকা নাগবে। টাকা পাইম কোনটে?’
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ফরিদুল ইসলাম মেয়েটির মৃত্যুর সনদ দেখে বলেন, ব্রেনের প্রদাহজনিত কারণে মেয়েটি মারা গেছে।
গতকাল বিকেলে কবিরাজ জগেশ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে গেলে তিনি এ প্রতিনিধির কাছে প্রথমে তাঁর পরিচয় গোপন রাখেন। পরে বলেন, ‘আমার চিকিৎসায় মেয়েটি ভালো হইতো। কিন্তু আমার ওপর মেয়ের বাবা-মার ভরসা ছিল না।’ অপচিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার চিকিৎসায় সবাই ভালো হয়।’
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে অভিযুক্ত কবিরাজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন