নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নে হতদরিদ্র মানুষের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে। ১৪ নম্বর প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়নের বৃ-চাপিলা গ্রামের জালালের বাড়ি থেকে সাদেকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারকাজে ওই অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হান্নান ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আলীর নেতৃত্বে স্থানীয় লোকজন এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কাবিখা কর্মসূচির আওতায় রাস্তা সংস্কার ও বৃ-চাপিলা দিঘিরপাড় মসজিদে সৌরবিদ্যুৎ-সংযোগ স্থাপনের জন্য নয় মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রাস্তার জন্য পাঁচ ও মসজিদে সৌরবিদ্যুতের জন্য চার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু ওই প্রকল্পের সভাপতি আবু তাহের কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় পাশেই চলা ৪০ দিনের কর্মসূচি থেকে শ্রমিক দিয়ে নিজ প্রকল্পের কাজ করিয়েছেন। কর্মসৃজন কর্মসূচির অধীনে শাহীবাজার পাকা রাস্তা থেকে সাধুপাড়া জলিলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার সংস্কারকাজ চলছে। এ প্রকল্পের সভাপতি ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আবদুর রহমানের সঙ্গে যোগসাজশে আবু তাহের এ দুর্নীতি করেন। এরই মধ্যে কাবিখা প্রকল্পের রাস্তার কাজের পাঁচ মেট্রিক টনের মধ্যে সাড়ে তিন মেট্রিক টন চাল তোলা হয়েছে। মসজিদটিতে এখনো সৌরবিদ্যুতের সংযোগ বসানো হয়নি।
হান্নান ও সাদেক অভিযোগ করেন, আবু তাহের ৪০ দিনের কর্মসূচির শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে কাবিখা প্রকল্পের সাড়ে তিন মেট্রিক টন চাল আত্মসাৎ করেছেন। এখান থেকে কর্মসৃজন প্রকল্পের সভাপতি আবদুর রহমানকেও ভাগ দেওয়া হয়েছে।
তবে আবদুর রহমান দাবি করেন, তিনি ঠিকভাবেই প্রকল্পের কাজ করছেন। তাঁর শ্রমিক দিয়ে কাবিখা প্রকল্পের কাজ করানোর অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আবু তাহের দাবি করেন, রাস্তায় যে মাটি ফেলা হয়েছে, সে পরিমাণই চাল তোলা হয়েছে। কর্মসৃজন কর্মসূচির শ্রমিক দিয়ে কাবিখার কাজ করানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন। হরতাল-অবরোধে তাঁর প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ করা সম্ভব হয়নি। এলাকার কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল আলম জানান, তিনি বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান। তাই এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।
ইউএনও ইয়াসমিন আক্তার জানান, তিনি অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন