জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় গত বৃহস্পতিবার এক কলেজছাত্রকে প্রতিপক্ষের লোকজন পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলায় গতকাল শুক্রবার এক তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মতলব উত্তর উপজেলায় নিহত কলেজছাত্রের নাম সাদ্দাম হোসেন (১৭)। সে ওই উপজেলার চরকাশিম গ্রামের মনজিল বকাউলের ছেলে। সে মতলব ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ধরমপাশায় উদ্ধার হওয়া লাশটি উপজেলার আজিদ মিয়ার (২০)। তিনি ধরমপাশার লংকা পাথারিয়া গ্রামের এলাহী বক্সের ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলার চরকাশিম গ্রামের সাদ্দামের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী জামাল হোসেনের (৫০) জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় সাদ্দাম বাড়ির পাশের একটি করলাখেতে কীটনাশক দিতে যায়। সেখানে ওই জমির সীমানা নিয়ে তার সঙ্গে প্রতিবেশী জামালের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জামাল তাঁর বাড়ির লোকজন নিয়ে সেখানে আসেন। তাঁরা লাঠি দিয়ে সাদ্দামকে বেধড়ক পেটান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের লোকেরা তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার পথে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মতলব ফেরিঘাট এলাকায় সে মারা যায়।
সাদ্দামের বাবা মনজিল বকাউল অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষ জামাল হোসেন ও তাঁর লোকজন তাঁর ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করেন। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য জামাল হোসেনের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ঘটনার পর থেকে হামলাকারীরা পলাতক।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন মজুমদার বলেন, এ ঘটনায় সাদ্দাম হোসেনের বাবা মনজিল বকাউল বাদী হয়ে জামাল হোসেন, হাতেম আলী, মো. শাহেদ, রোস্তম আলী সরকারসহ ২২ জনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার বিকেলে থানায় হত্যা মামলা করেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ধরমপাশা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. লুৎফুর রহমান বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ধরমপাশা উপজেলার লংকা পাথারিয়া গ্রামের আজিদ মিয়া পাশের বাড়িতে নির্বাচনী সভায় যান। সেখান থেকে রাত ১১টায় বাড়িতে এসে রাতের খাবার খান। গতকাল সকালে কয়েকটি শিশু মহিষ বাতান গ্রামের একটি আমগাছের ডালের সঙ্গে আজিদের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। খবর পেয়ে ধরমপাশা থানার পুলিশ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে আজিদের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তিনি (আজিদ) বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরে আজিদের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশটি তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন