default-image

১০ বছর আগে কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়িতে ‘হাতকাটা বাহিনী’র নৃশংসতায় হাত হারানো যুবলীগ কর্মী উজ্জ্বলের খোঁজ কেউ রাখেনি। তিনি এখন মানসিক দুঃখ-কষ্টে দিন পার করছেন। টাকার অভাবে চিকিৎসাও হয়নি ঠিকমতো।

গত মঙ্গলবার কুড়িগ্রামের রাজারহাটের ছিনাইতে কলেজশিক্ষক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আতাউর রহমানের হাত কেটে নেওয়ার পর আবার আলোচনায় এসেছে এই হাতকাটা বাহিনীর নৃশংসতার কথা। এই বাহিনীর প্রধান মেহেদী হাসান ওরফে বাঁধন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর থানায় ৯টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

২০১০ সালের ২৫ মে উজ্জ্বলের ডান হাত কেটে নেয় হাতকাটা বাহিনী। উজ্জ্বল সে সময় যুবলীগ করতেন। অন্যদিকে, হাতকাটা বাহিনীর সদস্যরা তখন ছাত্রলীগের নামধারী ছিলেন।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে, তখনকার জেলা যুবলীগের সভাপতি ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলীর বড় ছেলে ও বর্তমান জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রেদওয়ানুল হকের দ্বন্দের কারণে ওই ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসা নিয়ে হাতকাটা বাহিনীর সঙ্গে উজ্জ্বলের দ্বন্দ্ব ছিল।

default-image

উজ্জ্বলের বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি বাজার বাসস্ট্যান্ডের কাছে। তাঁর বাবা কাইয়ুম আলী মোটরশ্রমিক ছিলেন। ওই ঘটনার কয়েক বছর পর তিনি মারা যান।

উজ্জ্বলের প্রতিবেশীরা বলেন, হাত হারানোর আগে উজ্জ্বল কাঁঠালবাড়ি বাজারে একটি পানের দোকানে কাজ করতেন। এখন কিছু করতে পারেন না। সারা দিন এখানে-সেখানে ঘোরাঘুরি করেন। হাতের ব্যথা উঠলে হৈ–হল্লা করেন। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।

আজ শুক্রবার মুঠোফোনে কথা হয় উজ্জ্বলের সঙ্গে। তিনি শুধু বলেন, ‘হাতের যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারি না। মাথাও যন্ত্রণা করে।’

বাবা মারা যাওয়ার পর উজ্জ্বলের পরিবার পড়েছে ভীষণ আর্থিক সংকটে। তাঁর বড় দুই ভাই থাকলেও তাঁদের আর্থিক অবস্থা দুর্বল। বাধ্য হয়ে উজ্জ্বলের মা আকলিমা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। মায়ের সামান্য আয়ে উজ্জ্বল, তাঁর স্ত্রী ও এক বছরের ছেলের খাবার জোটে।

বিজ্ঞাপন

আকলিমা বেগম বলেন, ‘হামার খুব কষ্ট। যত খানে ইনকাম করি, তত খানে খাই। ছোয়াটার চিন্তায় চিন্তায় তার বাপ মরি গেইল। পঙ্গু ছোয়াটাক খোয়াই (খাওয়াই) কী?’
উজ্জ্বলের পরিবারের সদস্যরা বলেন, ওই ঘটনার পর উজ্জ্বলের বাবা কাইয়ুম আলী হাতকাটা বাহিনীর প্রধান মেহেদী হাসানসহ তাঁর সহযোগীদের নামে কুড়িগ্রাম সদর থানায় মামলা করেন। কিন্তু আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে তাঁদের ওপর মামলা তুলে নেওয়ার চাপ দেন। মামলা না তুললে উজ্জ্বলের অন্য হাতও কেটে নেওয়ার হুমকি দেন বলে উজ্জ্বলের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌফিক আল সাহাব বলেন, মামলাটির বিচার শুরু হলে বাদী ও বিবাদীপক্ষ স্থানীয়ভাবে আপস করে। ফলে আসামিরা মামলা থেকে খালাস পেয়ে যান।

default-image

এদিকে গত মঙ্গলবার হাতকাটা বাহিনীর হামলার শিকার কুড়িগ্রামের মজিদা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক আতাউর রহমান রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন।

মেহেদী হাসান পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর আগে তাঁর মা মর্জিনা বেগম ছেলেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন।

কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা প্রথম আলোকে বলেন, আতাউরের ওপর হামলার ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর বাবা গতকাল বৃহস্পতিবার রাজারহাট থানায় মামলা করেছেন। নৃশংস এ হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন