default-image

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার পর সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় আছেন কারা উপমহাপরিদর্শক বজলুর রশিদ। কারা উপমহাপরিদর্শক বজলুর রশিদকে ‘জনস্বার্থে’ দায়িত্বে ফিরিয়ে আনতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, চলছে চিঠি চালাচালি। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম বলছেন, এ ধরনের প্রস্তাব ও চিঠি চালাচালি সরকারি চাকরির গুরুতর অসদাচরণ। বজলুর রশিদ তথ্য গোপন করে জামিন নিয়েছেন। এখন আবার পদে ফিরতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ নিয়ে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম

প্রথম আলো: কারা উপমহাপরিদর্শক বজলুর রশিদের সংযুক্তি বা পদায়ন চিঠি চালাচালির বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

খুরশীদ আলম: আমি যে প্রতিবেদনটি প্রথম আলোতে দেখলাম এবং আবার পদায়নের জন্য যে ধরনের যোগসাজশ করছেন, তাতে এটা স্পষ্ট যে সরকারি কমর্চারী ২০১৮ বিধি লঙ্ঘন। এটা কোনোভাবে হতেই পারে না। তাঁর এফআইআর হয়েছে, অভিযোগপত্র হয়েছে, তিনি কারাগারে ছিলেন, আদালতে তথ্য গোপন করে জামিন নিয়েছেন। আর তথ্য গোপন করাটা ‘প্রফেশনাল মিসকনডাক্ট’। সেই লোকের ব্যাপারে কারা অধিদপ্তরের এমন তৎপরতা ও প্রস্তাব খুবই দুঃখজনক, অনিয়ম।

বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো: আপনি বলছেন বজলুর রশিদ তথ্য গোপন করে জামিন পেয়েছেন। তথ্য গোপনের বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন কি?

খুরশীদ আলম: জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় তাঁর জামিন দুইবার খারিজ হয়েছে। একবার উত্থাপিত হয়নি, আরেকবার খারিজের পাশাপাশি লিখে দেওয়া হয়েছে তাঁর জামিনের দরখাস্ত খারিজ এবং সেখানে বলে দেওয়া হয়েছে, ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য। এগুলো তিনি গোপন করে বিচারিক আদালত থেকে রায় নিয়েছেন। আমাদের পাবলিক প্রসিকিউটর পরদিনই এটা আদালতের নজরে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু তার আগেই তিনি বেরিয়ে গেছেন। তখন বিশেষ আদালত আমাদের পিপিকে বলেছেন, আপনি জামিন বাতিলের আবেদন দেন। আমরা হাইকোর্টের আদেশের কপিসহ সংযুক্ত করে দরখাস্ত দিলাম। সেটার শুনানি হলো। দুই পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত তাঁর জামিন বহাল রাখেন। পরে দুদক জামিন বাতিল চেয়ে রিট করে।

default-image

প্রথম আলো: কারা অধিদপ্তর তো বলছে তাঁকে বেতন দেওয়ার জন্য, শুধু অন্য কারাগারে সংযুক্ত করতে চায়। এটা কি তারা পারে?

খুরশীদ আলম: তাঁকে সংযুক্ত করার প্রশ্নই আসে না, যতক্ষণ না তিনি বেকসুর খালাস পাচ্ছেন। তাঁকে তো কারাগার বা কারা অধিদপ্তরে ঢুকতেই দেওয়া যাবে না। তিনি শুধু অর্ধেক খোরাকি ভাতা পাবেন। যেখানে থাকা অবস্থায় তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন, সেখানে থেকেই অর্ধেক খোরাকি ভাতা পাবেন। এসব যদি বন্ধ না হয় তবে কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে অশনিসংকেত। যেকোনো কর্মকর্তা এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করবেন। জেলে গিয়ে জামিনে নিয়ে আসবেন, আবার চাকরিতে বহাল হতে চাইবেন। আপনারা জানেন, এখন কারা প্রশাসনের দুজন কর্মকর্তা কারাগারে রয়েছেন। দুজন ডিআইজি কাঠগড়ায়। আরেকজন জেলার সোহেল রানার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা চলছে। কারাগারে সিট–বাণিজ্য, বন্দী–বাণিজ্য, বন্দিবিনিময়, খাবারের অনিয়ম নিয়েও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

প্রথম আলো: বজলুর রশীদের ব্যাপারে আপনারা পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেবেন?

খুরশীদ আলম: আজ (শুক্রবার) প্রথম আলোতে প্রকাশিত সংবাদে যা দেখলাম তাতে মনে হয়েছে, কারা কর্মকর্তারা ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণ করেছেন। এতগুলো তথ্য গোপন করে তিনি জামিন নিয়েছেন, তাঁকে আবার অন্য কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব আমাদের জানা ছিল না। এভাবে একজন বিচারাধীন আসামির সংযুক্তির ব্যাপারে প্রস্তাব পাঠানো পেশাগত অসদাচরণ। কারণ নিশ্চয়ই কারা অধিদপ্তর ‌‍‘বায়াস’ (পক্ষপাতমূলক) হয়েছে। হতে পারে কোনো আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন অথবা অন্য কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। বিষয়টি আমরা আদালতের নজরে নিয়ে আসব।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন