ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর কালশী এলাকার লোহার ব্রিজের পাশে গুলিবিদ্ধ এক যুবকের (২৫) লাশ পাওয়া যায়। লাশের পাশে একটি ব্যাগের ভেতর থেকে সাতটি পেট্রলবোমা ও সাতটি ককটেল উদ্ধার করে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ। এটি ‘হত্যাকাণ্ড’ না ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার ঘটনা, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো জানাতে পারেনি।
ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) কুদরত–ই–খুদা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে কিছু বোঝা যাচ্ছে না। লাশের পাশে পেট্রলবোমা ও ককটেল পাওয়ায় নাশকতার কোনো বিষয় আছে কি না, তা–ও আমরা খতিয়ে দেখছি।’
সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত যুবকের ডান কানে একটি গুলির ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’
এসি কুদরত–ই–খুদা আজ বেলা তিনটার দিকে জানান, মাথায় গুলি ও আঘাতের চিহ্ন থাকলেও লাশের চেহারা বিকৃত হয়নি। সম্ভবত লাশটি উদ্ধারের কিছু আগে ওই যুবক মারা গেছেন। এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হতে পারে।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘বন্দুকযুদ্ধে সে (যুবক) মারা গেছে। র‍্যাব, পুলিশ বা ডিবির (গোয়েন্দা পুলিশ) কারও না কারও সঙ্গে ঘটনাটি ঘটেছে।’
এ ব্যাপারে র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁর কিছু জানা নেই।
এদিকে যেখানে লাশটি পাওয়া যায়, সেই লোহার ব্রিজ থেকে লোকালয়ের দূরত্ব আধা কিলোমিটারেরও কম। কয়েক হাজার মানুষ আশপাশে বসবাস করে। স্থানীয় লোকজনও যুবকটিকে চিনতে পারেনি। উড়ালসেতুর কারণে পাশের সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করে দিন–রাত ২৪ ঘণ্টা ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চার বছর আগে সড়কটি নির্মাণের সময় স্বপন নামে স্থানীয় এক যুবকের লাশ পাওয়া গিয়েছিল। বালুর মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে সে সময় হত্যার ঘটনাটি ঘটে। তবে তখন জনবসতি বেশ কম ছিল।
আজ সকালে লাশ দেখেছেন এমন একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘গতকাল রাতে কিংবা আজ ভোরে এখানে কোনো গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি। অথচ সাতসকালে দেখতে পেলাম লাশ। হয়তো অন্য কোথাও মেরে লাশটি এখানে ফেলে রাখা হয়েছে।’
লাশটি উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত লাশটির সন্ধানে কেউ মর্গে আসেননি।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন