default-image

গাজীপুর সিটি করপোরেশনে প্রকাশ্যে এক কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের রাজ দিঘির পাড়ে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনার তথ্য নিতে প্রত্যক্ষদর্শী এক কিশোরকে হেফাজতে নিয়েছে।

নিহত কিশোরের নাম নুরুল ইসলাম (১৫)। সে স্থানীয় পাখি বিক্রেতা ফকির আলীর ছেলে। ফকির আলী গাজীপুর শহরের উত্তর রাজবাড়ি এলাকায় সপরিবারে ভাড়া থাকেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি শেরপুরের শ্রীবর্দী থানার ভায়াডাঙ্গা (ভাগাতা) এলাকায়।

পুলিশ হেফাজতে থাকা ওই কিশোরের নাম মো. সাজন (১৬)। পুলিশ জানিয়েছে, সাজন ঘটনার সময় নুরুলের সঙ্গে ছিল বলে তারা জানাতে পেরেছে। তার কাছ থেকে হামলার কারণ ও হামলাকারীদের সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হচ্ছে।

default-image

পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, কিশোর নুরুল ইসলাম গাজীপুর শহর ও আশপাশে ফেরি করে চা বিক্রি করত। দুপুরের খাবার খেয়ে নুরুল বেলা তিনটার দিকে বাড়ির পাশে রাজ দিঘির পাড়ে যায়। এ সময় চার থেকে পাঁচ কিশোর নুরুলের পিঠে চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কোপায়। পরে স্থানীয় লোকজন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। চা বিক্রেতা ওই কিশোরের হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের হেফাজতে থাকা সাজনের বড় ভাই রাজন মিয়া বলেন, গত রোববার ওই দিঘির পাড়ে পাশের সাহাপাড়া এলাকার মো. রানাসহ কয়েক কিশোর সিগারেট খাচ্ছিল। তাদের সিগারেট খেতে দেখে সাজন ও নুরুল বাধা দেয়। এর জেরেই রানার লোকজন খুন করেছে বলে রাজনের অভিযোগ।

default-image

রাজন জানান, মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে দুপুরের খাবার খেয়ে সাজন ও নুরুল ইসলাম তাদের বাড়ির পাশে দিঘির পাড়ে বসেছিল। এ সময় ৪-৫ জন কিশোর চাপাতি হাতে তাদের লক্ষ্য করে তেড়ে আসে। এ সময় সাজন দৌড়ে পাশের বাড়িতে ঢুকে দরজা আটকে দেয় আর নুরুল দিঘির পানিতে লাফিয়ে পড়ে। এ সময় তারা নুরুলকে পানি থেকে দিঘির পাড়ে তুলে চাপাতি দিয়ে কোপায়। পাশাপাশি সাজন যে ঘরে আশ্রয় নেয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সে ঘরে প্রবেশ করতে দরজা-জানালায় কোপাতে থাকে। তবে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়।

গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এজাজ শফি প্রথম আলোকে বলেন, একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাদের প্রতিপক্ষ ভেবে এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে ওই কিশোরকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে। ঘটনার তদন্ত এবং হত্যাকারী কিশোরদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0