সাত-আট বছর ধরে স্বামী ট্রাক চালান। কখনো দুর্ঘটনায় পড়েননি তিনি। এখন পেট্রলবোমায় তাঁর জীবন সংকটের মুখে। কীভাবে সংসার চলবে। স্বামীর চিকিৎসা কীভাবে হবে...
দগ্ধ ট্রাকচালক নুরনবীর স্ত্রী রোমানা আক্তার এভাবেই পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেন। গতকাল শনিবার নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। খাগড়াছড়ির রামগড়ের বাড়ি থেকে সকালে হাসপাতালে এসেছেন তিনি।
গত শুক্রবার রাত নয়টার দিকে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার হালিমা দিঘিরপাড় এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রলবোমার দগ্ধ হন ট্রাকচালক নুরনবী ও সহকারী মো. জাসেদ। তাঁরা খালি ট্রাক নিয়ে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থেকে রামগড়ে যাচ্ছিলেন। জাসেদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে গতকাল ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
রোমানা আক্তার জানান, স্বামী, চার বছরের এক শিশুপুত্র ও বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে তাঁদের পরিবার। তাঁর স্বামীর আয়েই সংসার চলে। বোমায় নুরনবীর উপার্জনের হাত পুড়ে গেছে।
হাসপাতালে বিভীষিকাময় সেই ঘটনার বিবরণ দেন নুরনবী। তিনি জানান, চাটখিলের হালিমা দিঘিরপাড় এলাকায় পৌঁছানোর পর পাঁচ-ছয়জন যুবক ট্রাকের গতিরোধের চেষ্টা করে। এ সময় তিনি না থামিয়ে তাঁদের অতিক্রম করার চেষ্টা করলে একজন জানালা দিয়ে পেট্রলবোমা ছুড়ে মারে। এতে জানালার কাচ ভেঙে পেট্রলের আগুন ট্রাকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাঁদের শরীর পুড়ে যায়। এ সময় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে ট্রাকটি সড়কের পাশের খালে পড়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, আগুনে ট্রাকচালক নুরনবীর দুই হাত ও মুখমণ্ডল পুড়ে গেছে। তাঁর সুস্থ হতে সময় লাগবে।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ট্রাকে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় শুক্রবার রাতে আটক বিএনপি ও জামায়াতের ১২ কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0