default-image

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দরজি বিকাশ চন্দ্র বর্মণকে (১৬) মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সন্দেহভাজন খুনির ফেলে যাওয়া জুতা, পূজায় আগত লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রযুক্তির সহায়তায় মো. শাকিব (২৪) নামের একজনকে চট্টগ্রাম থেকে গতকাল সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিম উল আহসান এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার হওয়া শাকিবের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মো. হানিফের ছেলে। ২ নভেম্বর মুরাদনগরের একটি পুকুরের কচুরিপানার ভেতর থেকে বিকাশের লাশ উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৩০ অক্টোবর রাতে বিকাশ বন্ধুদের সঙ্গে লক্ষ্মীপূজা দেখতে বের হয়। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। পরে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় ১ নভেম্বর রাতে মুরাদনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা প্রহ্লাদ চন্দ্র বর্মণ।

বিজ্ঞাপন

পরের দিন বিকাশের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ লাশ উদ্ধার ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠায়। ওই দিনই বিকাশের বাবা মুরাদনগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মো. শাকিব বলেছেন, ৩০ অক্টোবর পূজা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা চারজন। এরপর মুরাদনগরে ছয়তলা ভবনের নিচে বৃষ্টির কারণে দাঁড়ান তাঁরা। একপর্যায়ে বিকাশের বাড়ির দিকের বাসিন্দা উত্তম বর্ধন ও অজয় চন্দ্র সরকার বাড়ি ফিরে যান। ঘটনাস্থলে থাকেন শাকিব ও বিকাশ। বিকাশের হাতে মুঠোফোন দেখতে পেয়ে সেটি ছিনিয়ে নিতে ছুরি দিয়ে তাকে আঘাত করেন তিনি। এ সময় বিকাশ পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। পুলিশ শাকিবকে গ্রেপ্তারের পর মীম টেলিকম থেকে মুঠোফোন সেট এবং পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে।

মুরাদনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নাহিদ আহাম্মেদ বলেন, ‘ক্লুলেস একটি ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছি আমরা।’

মন্তব্য পড়ুন 0