যশোরের কেশবপুরে গত শুক্রবার রাতে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও একজন পৌর কাউন্সিলরের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর শহরের ত্রিমোহিনী মোড়ের মেহের আলী মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় তরুণ স্মৃতি সংসদে বসে ঠিকাদারি ব্যবসার হিসাব করছিলেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুজ্জামান (৩৮)। রাত আটটার দিকে ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও হাতুড়ি বাহিনীর প্রধান খন্দকার আবদুল আজিজের নেতৃত্বে ৮-১০ জন হাতুড়ি, চায়নিজ কুড়াল ও দেশি অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে হামলা করেন। এ সময় শহিদুজ্জামানকে হাতুড়িপেটা করলে তিনি আহত হন। শহিদুজ্জামানের ব্যবসায়িক অংশীদার বিপ্লব সিংহও আহত হন।
শহিদুজ্জামান অভিযোগ করেন, আবদুল আজিজ তাঁর কাছে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পৌর কাউন্সিলর বিপুল সিদ্দিকীর ইন্ধনে এ হামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে কেশবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনার পর কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর বিপুল সিদ্দিকীর শ্রীগঞ্জ বাজারের বাসা এবং কার্যালয়ে রাত নয়টার দিকে ভাঙচুর করেন যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। বিপুল সিদ্দিকী অভিযোগ, শহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে তরিকুল, শরিফুল, মুকুলসহ ১৫-২০ জন এই হামলা চালান। হামলার সময় তাঁর বাড়ির টেলিভিশন, চেয়ার-টেবিলসহ আসবাব ভেঙে ফেলা হয়।
এদিকে রাত ১০টার পর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। কেশবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এইচ এম আমির হোসেন অভিযোগ করেন, হাতুড়ি বাহিনীর প্রধান আজিজ ও তরিকুলের নেতৃত্বে ২০-২২ জনের একটি সশস্ত্র দল তাঁর বাড়িতে হামলা করে। তারা ইটপাটকেল ও পানীয় দ্রব্যের কাচের বোতল ছোড়ে।
কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘দুই পক্ষকে ডেকে বলে দিয়েছি, কেউ যেন কোনো গন্ডগোল না করে। পরে সুবিধাজনক সময়ে বসে এ বিষয়ে মীমাংসা করে দেওয়া হবে।’
কেশবপুর থানার ওসি মাহতাব উদ্দীন বলেন, উভয় পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0