ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের মামলা, আসামি পাঁচ পুলিশ সদস্য

বিজ্ঞাপন
default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানা-পুলিশের পাঁচজনের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থানীয় এক বাসিন্দা এ অভিযোগ করেন। বুধবার দুপুরে আদালতের বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তে পুলিশ সুপার কার্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশের ওই পাঁচজন হলেন আখাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান ও হ‌ুমায়ূন কবির, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) খোরশেদ আলম এবং কনস্টেবল প্রশান্ত ও সৈকত। তাঁদের মধ্যে এসআই মতিউর রহমান ও হ‌ুমায়ূন কবিরকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। কনস্টেবল প্রশান্ত ও সৈকত অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার পৌর শহরের মসজিদপাড়ার বাসিন্দা হারুন মিয়া মামলাটি করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাদী হারুন মিয়ার প্রতিবেশী মসজিদপাড়ার বাসিন্দা হাসিনা বেগম ওরফে চিকুনী বেগম এবং তাঁর মেয়ে তানিয়া আক্তার ও তানজিনা আক্তার। এই তিনজনের সঙ্গে সখ্য রয়েছে পুলিশের ওই পাঁচজনের। আটজন মিলিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হারুন মিয়া এই মাদক ব্যবসায় বাধা দেন। এতে হাসিনা ক্ষুব্ধ হয়ে হারুনের পেছনে পুলিশ লেলিয়ে দেন। গত ২৬ মে দিবাগত রাতে পাঁচ পুলিশ সদস্য নাটকীয়ভাবে হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর হাসিনার প্ররোচনায় তাঁরা তল্লাশির নামে হারুনের বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। এ ছাড়া ক্রসফায়ারের (কথিত বন্দুকযুদ্ধ) মাধ্যমে হত্যার ভয় দেখিয়ে ঘরে থাকা ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। পুলিশ সদস্যরা হারুনের ঘরের আসবাব ওলটপালট করেন। পুলিশ সদস্যরা পরবর্তীকালে ভোর চারটার দিকে আবার হারুনের বাড়িতে যান। এ সময় ভয় দেখিয়ে আরও এক লাখ টাকা দাবি করেন। তা না দিলে মাদক মামলায় হারুন ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে চালান দেওয়ার হুমকি দেন। হারুন নিরুপায় হয়ে আরও ৫০ হাজার টাকা দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাঁদের ছেড়ে দেন। চলে যাওয়ার সময় বলে দেন, বিষয়টি ওপরের কর্মকর্তাদের জানালে হারুনকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী গোলাম সারওয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হোসেন অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন। তিনি তদন্তের জন্য পুলিশ সুপারের কার্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। পরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নয়, এমন কাউকে দিয়ে অভিযোগটি তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রসুল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, আদালতে অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এর আগে একই বিষয়ে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকেই অভিযোগটির তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন