default-image

নারায়ণগঞ্জ নগরের ইসদাইরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরোনো সড়কের পাশে জেলা ক্রীড়া সংস্থার খালি জায়গায় অবৈধভাবে কোরবানির পশুর হাট বসানো হয়েছে। সিটি করপোরেশন ঈদুল আজহার তিন দিন আগে হাটে কোরবানির পশু আনার নির্দেশ দিলেও ১২ দিন আগেই এই হাটটি বসানো হয়েছে।
গত ১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ইজারা দেওয়া হাটের তালিকা ও ইজারাদারের নাম জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সিটি করপোরেশনের ইজারা দেওয়া ১৩টি হাটের মধ্যে এ হাটটির নাম নেই।
গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে প্রায় ২০০ গরু আনা হয়েছে। হাটে উৎসুক মানুষ ও ক্রেতাদের ভিড়। হাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বাঁশের টাওয়ার বানিয়ে সেখানে আলোকসজ্জা করা হচ্ছে, যাতে নদীতে চলাচলকারী গরুবাহী ট্রলার এ হাটে তাদের পশু নিয়ে আসে।
সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের এ জায়গাটি ইসদাইর ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামের পাশে। সরকারি এ জমিতে এ কে এম সামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। জায়গাটি বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছিল। কিন্তু গত শুক্রবার থেকে এখানে বাঁশের খুঁটি পুঁতে হাট বসানো হয়েছে। কয়েক স্থানে কাপড়ের শামিয়ানা টানানো হয়েছে।
স্থানীয় ১০ জন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা এই হাটটি বসিয়েছেন। হাটের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরোনো সড়কে যানজট আরও বাড়বে। কারণ এই হাটের আশপাশে সরকারি তোলারাম কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়সহ ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এ ছাড়া এ এলাকায় অর্ধশতাধিক কোচিং সেন্টারও আছে। ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ঈদের ছুটি শুরু হবে। কিন্তু ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ হাটে গরু আনা শুরু হয়ে গেছে। এ কারণে স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, সিটি করপোরেশনের একটি বৈধ হাট থেকে সিটি করপোরেশন ছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও জেলা প্রশাসন রাজস্ব পায়। কিন্তু অবৈধ হাট থেকে সরকার কোনো রাজস্ব পায় না। প্রশাসনের উচিত অবৈধ হাট বন্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহম্মেদ ওরফে টিটু বলেন, ‘কারা সেখানে হাট বসিয়েছে আমি জানি না। তবে আমি শুনেছি, সিটি করপোরেশনের পার্শ্ববর্তী একটি ইউনিয়ন পরিষদের এলাকায় উপজেলা প্রশাসন থেকে হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে। সেখানে হাটের প্যান্ডেল, বাঁশ টানানোর কাজ চলায় গরুগুলো সাময়িকভাবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার জায়গায় রাখা হয়েছে।’
পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসক জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি। জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা বলেন, ওসমানী স্টেডিয়াম ও এর পাশের এ কে এম সামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের খালি জায়গায় কাউকে হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। অবৈধ হাট উচ্ছেদে প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন