বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার নাচনাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) একজন সদস্য কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির পদ পেতে ওই ইউপি সদস্য এ হুমকি দেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আবদুল মতিন বলেন, ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা কমিটি নামে দুই বছর মেয়াদি একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটি নতুনভাবে গঠন করার প্রয়োজন হলে যথাসময়ে স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা আসবে। বর্তমানে সাবেক ইউপি সদস্য খান মো. ফরিদ ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যপদে সম্প্রতি উপনির্বাচনে জয়ী হন মশিউর রহমান। এর পর থেকে তিনি শিংড়াবুনিয়া নাচনাপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সভাপতি পদ দাবি করে আসছিলেন। গত ২৬ জানুয়ারি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য বিভাগের নির্ধারিত বিশেষ সেবা কার্যক্রম চলছিল। ওই দিন সেবা কার্যক্রমে বাধা দেন ইউপি সদস্য মশিউর। তিনি কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মকর্তা ফাতিমাকে গালিগালাজ করেন ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে উদ্যত হন। স্থানীয় সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক নূরুল আমিন ও স্বাস্থ্য সহকারী গোলাম মাহফুজ এ ঘটনায় ইন্ধন দেন। মশিউরের দাবি, ক্লিনিকের সভাপতি পদে তাঁকে নিতে হবে। না হলে তিনি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ করে দেবেন বলে হুমকি দেন। এ ঘটনায় গত ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি ওই ক্লিনিকের সেবা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এতে ভোগান্তিতে পড়েন ওই এলাকার নবজাতক শিশুসহ প্রসূতি মা ও গর্ভবতী নারীরা।
শিংড়াবুনিয়া নাচনাপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মকর্তা ফাতিমা বলেন, ‘ওই দিন ক্লিনিকের বিশেষ সেবা কার্যক্রমে বাধা দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মশিউর। তিনি আমাকে গালিগালাজ করেন। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে উদ্যত হন। এ ঘটনায় আমি আতংকে আছি।’
মশিউর রহমান বলেন, ‘কমিটি নিয়ে ফাতিমার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আমরা ওই ঘটনার মীমাংসা করার চেষ্টা করছি।’ তবে সেবা কার্যক্রম বন্ধের হুমকি দেওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন।
সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক নূরুল আমিনের মুঠোফোনে গতকাল শনিবার কল দিয়ে তা বন্ধ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য সহকারী গোলাম মাহফুজের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি ধরেননি।
সিভিল সার্জন মো. রুস্তুম আলী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা একটি প্রশিক্ষণে ঢাকায় ছিলেন। তিনি ফিরেই এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন