বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে ইট মেরেছেন এক যুবক। পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যদের উপস্থিতির মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই যুবককে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে।
গুলশানের ৮৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়িটিতে গত ৩ জানুয়ারি থেকে অবস্থান করছেন খালেদা জিয়া। বাড়িটি তিনি নিজ রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছেন।
বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কার্যালয়ের প্রধান ফটকের ভেতরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। এ সময় বাইরে থেকে এক যুবক গালিগালাজ ও চিৎকার করতে থাকে। এর মধ্যে প্রায় দেড় কেজি ওজনের একটি ইটা কার্যালয়ের দেয়ালের সঙ্গে বাড়ি খেয়ে আমার এক-দেড় হাত দূরে আছড়ে পড়ে। সরে না দাঁড়ালে এটি মাথায় পড়ত।’
ওই সময় ফটকের সামনে সাদাপোশাকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) দুই সদস্য চেয়ারে বসা ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) ফিরোজ কবির প্রথম আলোকে বলেন, ঢিল ছোড়া ব্যক্তিটি পাগল। সে ডিবির হেফাজতে আছে।
গতকালও কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে খাতা নিয়ে সাদাপোশাকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সদস্যরা চেয়ার পেতে বসেন। কার্যালয়ের ভেতরে যাঁরা যেতে চান, তাঁদের নাম-ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর লিখে তারপর ঢুকতে দিচ্ছেন।
এদিকে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় বেসরকারি মুঠোফোন কোম্পানিগুলোর নেটওয়ার্ক সচল হয়েছে। গুলশান-বারিধারা এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসের মুঠোফোন সংযোগ সচল করে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নির্দেশনা পাওয়ার পর মুঠোফোন কোম্পানিগুলো গতকাল ওই এলাকায় নেটওয়ার্ক সচল করে দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মুঠোফোন কোম্পানির কয়েকজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি হওয়ার কারণে সুনির্দিষ্ট কোনো বাড়িতে নেটওয়ার্ক চালু বা বন্ধ করা সম্ভব নয়। ওই এলাকার ভিটিএসের ট্রান্সিভারগুলো (ট্রান্সমিটার ও রিসিভার) চালু করে দেওয়ার কারণে খালেদা জিয়ার কার্যালয়েও নেটওয়ার্ক পাওয়া যেতে পারে বলে জানান তাঁরা।
বিএনপির চেয়ারপারসন কার্যালয়ের সূত্র জানায়, গতকাল দুপুর থেকে সেখানে মুঠোফোনের নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে।
মুঠোফোন কোম্পানিগুলোর সূত্রে জানা যায়, দূতাবাসগুলোর মুঠোফোন নেটওয়ার্ক চালু করে দিতে মঙ্গলবার দুপুরে বিটিআরসি থেকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই এলাকায় মুঠোফোন কোম্পানিগুলোর নেটওয়ার্ক সচল করা শুরু হয়। পরে বিকেলেই ই-মেইলে বিটিআরসি থেকে নির্দেশনা পাঠিয়ে দেওয়া হয় মুঠোফোন কোম্পানিগুলোর কাছে।
গত ৩০ জানুয়ারি দিবাগত রাত পৌনে তিনটায় খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের বিদ্যুৎ-সংযোগ কেটে দেওয়া হয়। এর পরদিন দুপুরের দিকে বিভিন্ন মুঠোফোন কোম্পানির সংযোগ, ইন্টারনেট, কেবল টিভি, টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। প্রায় ১৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ৩১ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে বিদ্যুৎ-সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়। তবে অন্য সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন ছিল। টেলিটক ছাড়া অন্য কোনো মুঠোফোন কোম্পানির নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছিল না।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ের আশপাশে মুঠোফোনের নেটওয়ার্কের জটিলতার কারণে টেলিফোন যোগাযোগ ও ইন্টারনেট সংযোগের ক্ষেত্রে সমস্যায় ছিল কয়েকটি দূতাবাস। জাপান, নেদারল্যান্ডস ও স্পেন দূতাবাস মুঠোফোনের নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে টেলিফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে অসুবিধার বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানায়। তিন দূতাবাসের অনুরোধের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিটিআরসিকে জানিয়েছিল।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসি গুলশান-বারিধারা এলাকায় দূতাবাসগুলোর মুঠোফোন নেটওয়ার্ক দ্রুত সচল করতে নির্দেশনা পাঠায়।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন