কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার জারুইতলা ইউনিয়নের গোপিরায় বাজারের সরকারি খালের প্রায় ২৯ শতক জায়গা এলাকার প্রভাবশালী চার ব্যক্তি ভরাট করে বাড়ি ও দোকান নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় জারুইতলা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে তাঁদের ডাকা হলেও তাঁরা যাননি।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোপিরায় বাজারের ওই খাল দিয়ে বর্ষাকালে নৌকায় করে মালামাল আনা-নেওয়া হতো। ১ নম্বর খতিয়ানে ওই খালটি প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ।
এ খালের ৭৩১ দাগের ১৫ ও ৭৩২ দাগের ১৪ শতক জায়গা জারুইতলা ইউনিয়নের সাজনপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়া, পারসু মিয়া, আল আমিন ও জিলু মিয়া সম্প্রতি দখল করেন।
পরে খাল ভরাট করে বাচ্চু পাঁচটি দোকান নির্মাণ করেন। পারসু একটি পাকা বাড়ির নির্মাণের কাজ করছেন। জিলু ও আল আমিন প্রত্যেকে একটি করে টিনের ঘর তুলে মুদির ব্যবসা করছেন। এতে খাল দিয়ে বর্ষাকালে নৌকা চলাচল ব্যাহত হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, খালটি ভরাট করার সময় প্রথমে আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা এসে বাচ্চুসহ ওই চারজনকেই বাধা দেন। কয়েক দিন পর তাঁরা আবার মাটি ভরাট শুরু করেন। তখন নেতারা আর কিছু বলেননি।
এ বিষয়ে গোপিরায় বাজারের বণিক সমিতির সভাপতি শফি উদ্দিন মাস্টার জানান, জায়গাটি দখলমুক্ত করতে তাঁরা অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু কাজ না হওয়ায় তাঁর বিষয়টি ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদারকে (নায়েব) জানান।
অভিযুক্ত বাচ্চু বলেন, ‘আমার জায়গায় আমি আট লাখ টাকা খরচ করে দোকান তুলেছি। কোনো সরকারি জায়গা দখল করিনি। ওই পাঁচটি দোকান থেকে আমি ছয় হাজার টাকা প্রতি মাসে ভাড়া পাচ্ছি।’
জিলু বলেন, ‘খাস-টাস বুঝি না, আমি দোকানঘর তুলে ব্যবসা করছি। আপনার কী?’ পারসু বলেন, ‘আমার জায়গায় আমি মাটি ভরাট করে পাকা বিল্ডিং করে ঘর বানাইতেছি। সরকারের জায়গা হলে পরে বুঝা জায়বোনে।’ তবে আল আমিন বলেন, খালি জায়গা পেয়ে ঘর তুলে ব্যবসা করছি। এর বেশি কিছু বুঝি না।
জারুইতলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মজিবুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখতে পাই, যেখানে মাটি ভরাট করে দোকান ও বাড়ি করা হচ্ছে, ওই জায়গা জারুইতলা ইউনিয়নের ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত সরকারি খাল। তাৎক্ষণিকভাবে পিয়ন পাঠিয়ে বাচ্চু, পারসু, আল আমিন ও জিলুকে কার্যালয়ে তলব করি। কিন্তু তাঁরা কেউ কার্যালয়ে আসেননি। পরপর তিন দিন ডাকার পরও তাঁরা না আসায় বিষয়টি লিখিতভাবে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএন) মো. হাবিবুর রহমানকে জানাই ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করি।
ইউএনও মো. মাহবুব আলম গতকাল বুধবার বিকেলে প্রথম আলোকে জানান, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মজিবুরের সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব সরকারি জায়গা থেকে দোকানঘর উচ্ছেদ ও বাড়ি নির্মাণকাজ বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খালটি দখলমুক্ত করতে কয়েক দিনের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করা হবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন