ময়মনসিংহের নান্দাইলে গত শুক্রবার রাতে মো. বিল্লাল হোসেন ও তাঁর তিন ছেলেকে হত্যার ঘটনায় জামাল উদ্দিন নামের আরও একজনের মৃতদেহ গতকাল শনিবার পাওয়া গেছে। জামাল বিল্লালের ভাইয়ের ছেলে। বিল্লালের পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে জামাল ও তাঁর আরও দুই ভাই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছেন।
উপজেলার বাঁশহাটি গ্রামের বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি মো. বিল্লাল হোসেন তাঁর ছেলে পাভেল মিয়াকে (১৬) শুক্রবার রাতে বাড়িতে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন বিল্লালের স্ত্রী বানেছা আক্তার। পরে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বিল্লালের অপর দুই ছেলে মো. ফরিদ মিয়া (৩৫) ও হিমেল মিয়াকে (১৪)।
নিহত পাঁচজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গতকাল কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। আহত বানেছা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
বিল্লাল হোসেনের মেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মুক্তার অভিযোগ, রাত নয়টার দিকে তাঁর চাচা লাল মিয়ার দুই ছেলে জামাল ও কামাল এবং অপর চাচা কাজল মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ঘরে ঢোকে। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিল অস্ত্রধারী আরও কয়েকজন। তারা তার (মুক্তা) বাবা বিল্লাল ও ভাই পাভেলকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। এ সময় সে খাটের নিচে লুকিয়ে পড়ে। বাবা ও ভাইকে কোপাতে দেখে তার মা বানেছা এগিয়ে যান। তখন অস্ত্রধারীরা তাঁকেও কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই বিল্লাল ও পাভেলের মৃত্যু হয়। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে বানেছাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
মুক্তা আরও জানায়, ওই ঘটনার পর তার অপর দুই ভাই ফরিদ ও হিমেলের লাশ পাওয়া যায় বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে রাস্তার ধারে। তাঁদের কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ফরিদ ও হিমেল সম্ভবত বাঁশহাটি বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।
এদিকে, গতকাল সকালে লাল মিয়ার বাড়ির কাছে একটি খালের পাড় থেকে তাঁর ছেলে জামাল উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন নান্দাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুরাদ আলী শেখ। তিনি জানান, লাশের বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে জামাল কার হাতে খুন হয়েছেন, তা পরিষ্কার নয়।
নিহত বিল্লাল হোসেনের বোন কোকিলারা (৫৫) গতকাল বলেন, তাঁরা চার ভাই ও দুই বোন। ভাইদের মধ্যে সবার বড় লাল মিয়া। শুক্রবার সকালে লাল মিয়া তাঁর কাছে কিছু টাকা ধার চান। না দেওয়ায় ছেলে কামালকে নিয়ে লাল মিয়া তাঁদের বাড়িতে হামলা চালান। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। বিল্লাল ও তাঁর ছেলেরা লাল মিয়ার পক্ষে না থাকায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। পরে লাল মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে অপর ছেলে জামালকে বাড়িতে ডেকে আনেন।
প্রতিবেশীদের ধারণা, শুক্রবার রাতে বিল্লালের বাড়িতে হামলার সময় জামাল ও কামাল এবং তাঁদের চাচাতো ভাই আবুল হোসেনের সঙ্গে অস্ত্রধারী অপরিচিত যারা এসেছিল, তারা সম্ভবত ভাড়াটে খুনি।
গতকাল সকালে লাল মিয়া এবং তাঁর ভাই কাজল মিয়ার বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। লাল মিয়ার বাড়ির দরজায় তালা লাগানো ছিল। রান্নাঘরে একটি ডেকচিতে ১০-১৫ জনের পানের উপযোগী চা প্রস্তুত অবস্থায় দেখা যায়।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আবদুল্লাহ বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য এবং আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছে। এর ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শরিকদের মধ্যে বিরোধের জের ধরেই বিল্লাল ও তাঁর তিন ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তবে জামাল উদ্দিন কীভাবে খুন হলেন, সে বিষয়ে কোনো ধারণা এখনো পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0