বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী চক্রের সদস্যরা রাজধানীর ও আশপাশে জনাকীর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়ে সকালে অফিসগামী যাত্রীদের পিছু নিতেন। তাঁরা যাত্রীদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কারে ওঠাতেন। গাড়িচালকসহ চক্রের তিন-চারজন সদস্য যাত্রীবেশে বসে থাকতেন। পরে যাত্রী তুলে চক্রের সদস্যরা নির্জন স্থানে নিয়ে খুন–জখমের ভয়ভীতি দেখিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নিতেন। পরে তাঁদের স্বজনদের ফোন করে মুক্তিপণ নিয়ে বিকেলে ছেড়ে দিতেন ভুক্তভোগীদের।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ আরও বলেন, ঈদুল ফিতরকে লক্ষ্য ধরে তারা আরও অপহরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে স্বীকার করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, অপরাধের ডেটাবেইস পর্যালোচনা এবং তদন্তে ডিবি জানতে পেরেছে, গত পাঁচ বছরে বারেক ও তাঁর চক্রের বিরুদ্ধে অপহরণ, মুক্তিপণ, চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা, অস্ত্র, বিস্ফোরক, মারামারিসহ বিভিন্ন ধরনের মামলা আদালতে বিচারাধীন। বারেকের নেতৃত্বে গত পাঁচ বছরে ৫০০টি অপহরণের ঘটনা ঘটলেও এর মধ্যে রুস্তুম খান নামের এক ব্যক্তি বারেক চক্রের বিরুদ্ধে একটি অপহরণের মামলা করেছেন।

হারুন অর রশীদ বলেন, গত বছরের ২৫ জানুয়ারি সকালে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রুস্তম খানকে যাত্রাবাড়ীর বাদমা মিয়া রোডের মাথা থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে ব্যক্তিগত গাড়িতে তোলেন। তাঁরা রুস্তুমের হাত-পা বেঁধে চোখে কালো চশমা পরিয়ে দেন। অপহরণকারীরা রুস্তুমকে মারধর করেন।

তাঁরা রুস্তুমের মেয়েকে ফোন করে তাঁদের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে এক লাখ টাকা নেন। পরে অপহরণকারীরা রুস্তমের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন ও নগদ দেড় হাজার কেড়ে নেন। ওই দিন বিকেলে রুস্তমকে তাঁরা মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার বাউশিয়ায় নির্জন স্থানে ফেলে চলে যান। পরে রুস্তম যাত্রাবাড়ী থানায় অপহরণের মামলা করেন। ওই মামলার তদন্তে নেমে ডিবি অপহরণকারী বারেক চক্রের সন্ধান পায়।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন