নাটোরের গুরুদাসপুরে একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগের নামে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষকের কোনো শূন্য পদ না থাকলেও শাখা অনুমোদনের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন।
গুরুদাসপুর উপজেলার পোয়ালশুরাপাটপাড়া বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল হকের বিরুদ্ধে ২২ ফেব্রুয়ারি নাটোর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. সেলিম রেজা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার আরজি সূত্রে জানা গেছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ ২০১৩ সালের ২৫ মে দৈনিক নয়া দিগন্ত এবং একই বছরের ৪ এপ্রিল নাটোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক জনদেশ পত্রিকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়। সে অনুযায়ী সেলিম রেজাসহ তিনজন সহকারী শিক্ষক পদে আবেদন করেন। ২৯ মে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার আয়োজন করেন প্রধান শিক্ষক। পরে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের কথা বলে প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজার কাছে ৭ লাখ টাকা দাবি করেন। তার মধ্যে ৫ লাখ টাকা দেন সেলিম রেজা। প্রধান শিক্ষক স্কুলের প্যাডে ৩০ জুন ৫ লাখ টাকা প্রাপ্তির কথাও স্বীকার করেন।
সেলিম রেজা অভিযোগ করেন, ওই টাকা দেওয়ার পর তাঁকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ২ জুলাই থেকে তিনি সহকারী শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিতে থাকেন। একই পন্থায় আবদুল হান্নান ও মোজাম্মেলকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এমপিওর জন্য আবেদন করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে অতিরিক্ত শ্রেণি খোলার অনুমতি না নিয়েই ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এরপর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক গত বছরের ২৬ মে অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার অনুমোদনপত্র জাল করায় প্রধান শিক্ষককে তাঁর বেতন বন্ধ করা হবে না কেন, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
সেলিম রেজা জানান, তিনি গত ৫ জানুয়ারি প্রধান শিক্ষকের কাছে দেওয়া ৫ লাখ টাকা ফেরত চান। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তাঁকে টাকা ফেরত দেননি। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতে মামলা করেছেন।
প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক বলেন, বিধি অনুসরণ করেই সেলিম রেজাসহ অন্যদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়নি। ভুয়া কাগজপত্র তৈরির অভিযোগটি সঠিক নয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান জানান, এ বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন