default-image

পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধ ও সংঘর্ষে গত প্রায় এক মাসে ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ১৫ জনের মধ্যে নয়জনই কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী নন। তাঁরা কেউ দিনমজুর, কেউ দোকানি, কেউ ভ্রাম্যমাণ খেলনা বিক্রেতা। একজন প্রবাসী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রও রয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তির পর এঁদের তিনজনের পা কেটে ফেলা হয়েছে।
আহত ব্যক্তি ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, কোনো অভিযোগ ছাড়াই পুলিশ তাঁদের পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর পুলিশ মামলাও দিয়েছে। সব ঘটনার ক্ষেত্রেই পুলিশ কথিত বন্দুকযুদ্ধ বা হামলার কথা বলেছে। পুলিশের দাবি, নাশকতায় বাধা দিতে গেলে তাঁরা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। পুলিশ বাধ্য হয়ে গুলি চালায়।
ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ বা নিরীহ মানুষকে ধরে গুলি করার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু গত ৬ জানুয়ারি থেকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের টানা অবরোধ শুরুর পর থেকে এ ধরনের ঘটনা নতুন মাত্রা পায়। গত ২১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ২৬ দিনে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১৯ জন নিহত হওয়ার খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ সময়ে কতজন আহত হয়েছেন, তার সঠিক কোনো হিসাব মেলেনি। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর যাঁদের ঢাকায় সরকারি হাসপাতালে আনা হয়েছে, প্রথম আলো শুধু তাঁদের ব্যাপারে খোঁজ নিতে পেরেছে। এসব ঘটনায় পুলিশ যে বক্তব্য দিয়েছে, তার সত্যতা মেলেনি।
এই ১৫ জনের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ খুব কাছ থেকে প্রত্যেকের শুধু পায়ে গুলি করেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন ও অভিযান) মোখলেসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ আইন মেনেই দায়িত্ব পালন করে। এ ক্ষেত্রে কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আছে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।
গুলিবিদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র: ৪ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে পুলিশের গুলিতে আহত হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নয়ন বাছার। তিনি পুলিশি পাহারায় পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

default-image

নয়ন বলেন, ৪ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে আটটার দিকে সদরঘাটে টিউশনি শেষে ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে থেকে একটি বাসে ওঠেন মীরহাজিরবাগে যাওয়ার জন্য। এ সময় কে বা কারা বাসে আগুন দেয়। বাস থেকে দ্রুত নেমে পড়ার পর পুলিশ তাঁকে আটক করে। পুলিশ জানতে চায়, তিনি জামায়াত-শিবির করেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, তাঁর নাম নয়ন বাছার, তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের। এর পরই হাঁটুর ওপরে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে সাদাপোশাকের পুলিশ।
নয়নের মা শিখা রানী বাগেরহাটে থাকেন। ছেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর শুনে তিনি ঢাকায় এসেছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, পুলিশের সাজানো এ অভিযোগ থেকে মুক্তি চান তাঁর ছেলে। কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসানের দাবি, বাসে আগুন দেওয়ার সময় পুলিশ নয়নকে হাতেনাতে ধরে ফেললে নয়ন পুলিশের ওপর আক্রমণ চালান। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী।
মীরহাজিরবাগের একটি মেসে থাকেন নয়ন। সেখানে গেলে কয়েকজন মুদি দোকানি বলেন, ছেলেটিকে তাঁরা চেনেন, কখনোই মিছিলে দেখেননি।
চালক নাসির: গাজীপুরের শিববাড়ী মোড়ে গত শুক্রবার দুপুরে পুলিশের গুলিতে আহত হন লেগুনাচালক নাসির উদ্দিন। জয়দেবপুর থানার পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান বলেন, পেট্রলবোমা মারার সময় পুলিশ তাঁকে গুলি করে। তাঁর কাছে চাকু পাওয়া গেছে। তবে তাঁর বাবা আবদুস সামাদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ছেলেকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে গুলি করেছে পুলিশ। নাসিরের বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলা পাওয়া যায়নি। কোনো দলীয় পরিচয়ও মেলেনি।
গুলিবিদ্ধ দুই বন্ধু: গত বুধবার ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার বাগেরায় পুলিশের গুলিতে পান দোকানি মেহেদী হাসান (২০) ও তাঁর বন্ধু বাসচালকের সহকারী শরিফ মোল্লা (১৯) আহত হন। পরে পঙ্গু হাসপাতালে এলে শরিফের একটি পা কেটে ফেলা হয়। শরিফের ডান ঊরু থেকে নিচের অংশ অস্ত্রোপচারের পর বাদ দেওয়া হয়েছে। আর মেহেদীকে পা হারাতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
মেহেদী হাসানের বাবা সেলিম উদ্দিন বলেন, সপরিবারে তিনি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার জামতলা মোড়ে থাকেন। মেহেদী তাঁর সঙ্গে পান দোকানে কাজ করে। সে কোনো রাজনীতি করে না। গতকাল ময়মনসিংহ শহরের জামতলা মোড়ে গিয়ে মেহেদীর পরিবার ও তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় শরীফের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শরীফ বাসচালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তবে শরিফ মাঝেমধ্যে বিএনপির মিছিলে গেলেও মেহেদী মিছিলে যেতেন না।
ধরে নেওয়ার দুদিন পর ফারুককে গুলি: ৩ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার সদর উপজেলার দিনমজুর ফারুক হোসেনকে (৩০) বুধহাটায় শ্বশুরের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এর দুদিন পর ওই উপজেলার ছয়গ্রামে নিয়ে তাঁর পায়ে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ করে পরিবার। এখন তিনি পঙ্গু হাসপাতালের কারাকক্ষে চিকিৎসাধীন। ফারুক কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী নন বলেও পরিবার জানিয়েছে।
গত শনিবার ওই হাসপাতালে ফারুকের সঙ্গে কথা হয়। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার কোনো থানায় মামলা বা অভিযোগ নেই। সাতক্ষীরায় কাজ না থাকলে তিনি ঢাকায় রিকশা চালান। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ফারুক বলেন, ‘৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শ্বশুরবাড়ি থেকে আমারে ধরে ডিবি অফিসে নিয়ে যায়। দুদিন আটকে রাখার পর আমারে কয়, তোরে গুলি করব। রাত ১২টার পর আমাকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের গাড়িতে তুলে দেড় কিলোমিটারের মতো দূরে সাতক্ষীরার ছয়গ্রাম এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর আমার চোখ বেঁধে ফেলা হয়। পুলিশ আমারে বলে, “আল্লাহ আল্লাহ” কর। বলার সঙ্গে সঙ্গে বাঁ হাঁটুতে গুলি করল পুলিশ।’
ফারুক জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে পুলিশের গাড়িতে তুলে সাতক্ষীরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দুদিন পর সেখান থেকে সাতক্ষীরার কেন্দ্রীয় কারাগারে ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। পরে পঙ্গু হাসপাতালে আনার পর পা কেটে ফেলেন চিকিৎসকেরা।
সাতক্ষীরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ৫ জানুয়ারি সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের ছয়ঘরিয়া এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ডাকাতেরা গুলি করলে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। এতে ফারুক গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা ও ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
দোকানি আতাউরকে ধরেই গুলি: ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী বিদ্যুৎ গলিতে পুলিশের গুলিতে আহত হন আতাউর রহমান (২৫)। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আতাউর বলেন, ‘যাত্রাবাড়ীর দীন মোহাম্মদ সুপার মার্কেটে আমার এমব্রয়ডারির দোকান আছে। রাতে পাওনা টাকার তাগাদা দিয়ে যাত্রাবাড়ী ফিরি। একপর্যায়ে যাত্রাবাড়ী মোড়ে ইলিশা পরিবহনের কাউন্টারের কাছে প্রস্রাব করতে বসি। এ সময় ৩০-৪০ জন যুবক এসে বলে, “তুই এখানে”। এরপর তারা মারধর করে পুলিশকে বলে, “ও গাড়িতে ককটেল মেরেছে”। এ কথা শুনেই যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ ধরে আমার পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে।’
যাত্রাবাড়ীর থানার ওসি অবনী শঙ্কর কর দাবি করেন, বিআরটিসির বাসে আগুন দেওয়ার সময় পুলিশ এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে আতাউরের পায়ে গুলি লাগে।

default-image

টোকাই জাকির: যাত্রাবাড়ীতে রুমানা ফ্যাক্টরির পেছনে পুলিশের গুলিতে আহত হন টোকাই জাকির হোসেন (১৮)। জাকির জানান, কাগজ টোকাতে গেলে তিনি একটি জর্দার কৌটা পান। সেটি তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ পায়ে গুলি করে। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি বলেন, ককটেল মেরে পালানোর সময় পুলিশ গুলি করে।
বাড়ি থেকে নিয়ে সৌদিপ্রবাসীকে গুলি: গত ২১ জানুয়ারি গভীর রাতে পুলিশ লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার লতিফপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে সৌদিপ্রবাসী মহীনউদ্দিনকে আটক করে। কিছুদূর যাওয়ার পর তাঁর পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে পুলিশ। তিনি পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মহীনউদ্দিন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পর্যন্ত নেই। তিনি রাজনীতি করেন না। তবু পুলিশ ধরে হাঁটুতে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেছে। আবার মামলা দিয়ে তাঁকে আসামিও বানিয়েছে। তাঁর স্ত্রী ফাতেমা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ২১ জানুয়ারি গভীর রাতে পুলিশ এসে বিনা কারণে মহীনউদ্দিনকে আটক করে। তাঁর মোটরসাইকেল নিয়ে গেলেও আর ফেরত দেয়নি। কিছুদূর যাওয়ার পর পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে পুলিশ।
স্থানীয় লোকজন জানান, বছর খানেক আগে তিনি বিদেশ থেকে ফিরেছেন। বিদেশে যাওয়ার আগে তিনি বিএনপির সমর্থক ছিলেন।
তবে লক্ষ্মীপুর জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান সাফিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মহীনউদ্দিন জিসান বাহিনীর সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১২টি মামলা রয়েছে। চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, পুলিশ লতিফপুরে অভিযানে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে মহীনউদ্দিন আহত হন।
ব্যবসায়ী মোমেন: ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পুরান ঢাকার বঙ্গবাজারে পুলিশের গুলিতে আহত হন সিটি গোল্ড ব্যবসায়ী আবদুল মোমেন (৩৯)। সিঙ্গাপুরপ্রবাসী বন্ধু আবদুর রহমানের সঙ্গে তিনি মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় বঙ্গবাজার মোড়ে পুলিশের গুলিতে তাঁরা আহত হন।
তবে শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ককটেল মেরে পালানোর সময় পুলিশের গুলিতে তাঁরা আহত হন।
তুই আগুন দিয়েছিস বলেই গুলি: ২ ফেব্রুয়ারি বাড্ডার ক্যামব্রিয়ান কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে আহত হন ফুটপাতের খেলনা বিক্রেতা শাহ মো. সালমান (২৮)। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সালমান বলেন, তিনি একটি বাসের যাত্রী ছিলেন। ওই বাসে আগুন দেওয়া হলে তিনি দ্রুত নেমে পড়েন। কিন্তু পুলিশ এসে বলে, ‘তুই আগুন দিয়েছিস।’ এর পরই পায়ে গুলি করে। সালমানের মা হলেমা বেগম বলেন, তাঁর ছেলে কোনো রাজনীতি করে না।
বাড্ডা থানার ওসি এম এ জলিল বলেন, বাসে আগুন দেওয়ার সময় তাঁকে গুলি করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশের গুলিতে আহত সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কাজীরহাটে পুলিশের গুলিতে আহত হন ওই উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল মজিদ (৩৮)। তিনি পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাজধানীর কদমতলীর যুবদল নেতা আবদুল হামিদ (৩০), বাড্ডার মাদকাসক্ত মাসুম (২৮), জামায়াতের কর্মী নাজমুল হাসান (৪০) ও ঢাকা মহানগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের নেতা আবদুর রাজ্জাক (২৮) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
যোগাযোগ করা হলে মানবাধিকারকর্মী নূর খান প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের গুলিতে আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন, তাঁদের অনেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দিনমজুর, লেগুনাচালক, ছাত্র ও ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাঁদের ক্ষতচিহ্ন দেখে মনে হচ্ছে, পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে। এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন