default-image

যাঁরা একটু দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন, তাঁদের দিনটা শুরু হয়েছে গুলির শব্দে। সূর্যোদয়ের আগেই ধারালো অস্ত্র, রড, লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর রেশ ছিল দিনভর। গতকাল রোববার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চিত্র ছিল এমনই। 
লাঠি ও ইটের আঘাতে এক পক্ষ অন্য পক্ষের দুই কর্মীর হাত-পা ও মাথা থেঁতলে দিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও দুজন। এর আগে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হন ছাত্র তাপস সরকার।
সংঘর্ষের পর বিকেলে শাহজালাল এবং সন্ধ্যায় শাহ আমানত হলে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ৬১ জন নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। এ সময় শাহজালাল হল থেকে রড, রামদাসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র, কয়েক বস্তা ইট ও পাথরের গুঁড়া উদ্ধার করা হয়। সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাসের মূল ফটক, প্রশাসনিক ভবন, উপাচার্য দপ্তর ও শিক্ষক ক্লাবে তালা লাগিয়ে দেয় এক পক্ষ।
এ বিষয়ে হাটহাজারী থানার তদন্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন বলেন, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের ১৪টি শেল ও পাঁচটি রাবার বুলেট ছোড়ে। তবে তাঁর দাবি, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়নি।
ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ হলো ভিএক্স (ভার্সিটি এক্সপ্রেস) এবং সিএফসি (চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার) ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ। দুই পক্ষই নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
সংঘর্ষের সময় সকাল নয়টার দিকে সিএফসি ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের কর্মীরা কয়েকজন শিক্ষককে ধাওয়া দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুপুরে কর্মীরা কয়েকজন শিক্ষকের বাসায় গিয়েও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন।
উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ বলেন, ‘প্রতিবাদের নামে উপাচার্য দপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকসহ বিভিন্ন কার্যালয়ে তালা লাগানো, শিক্ষকদের ধাওয়া করা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া গর্হিত কাজ। ছাত্রদের কাছ থেকে এমনটি আশা করি না।’
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল ভোর ছয়টায় শাহজালাল হলে ভিএক্স পক্ষের প্রায় ৬০ জন নেতা-কর্মী ঢুকে পড়েন। তাঁরা আগে এ হলে অবস্থান করতেন। তাপস হত্যার পর তাঁরা হল ছেড়ে যান। নতুন করে ভিএক্স পক্ষের নেতা-কর্মীরা হলে উঠেছেন—এ খবর প্রচার হওয়ার পর শাহ আমানত হলে অবস্থানরত সিএফসি ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ পক্ষের নেতা-কর্মীরা হল থেকে বেরিয়ে পড়েন। দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা থেমে থেমে গুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষের ইটের আঘাতে আহত হন সিএফসি ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ পক্ষের নিয়াজ উদ্দীন ও মো. রাসেল। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
শাহজালাল হলে তল্লাশি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় দুপুরে ভিএক্স পক্ষের চার-পাঁচজন নেতা-কর্মী হলের পেছন দিক দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগের চেষ্টা করেন। এ সময় প্রতিপক্ষের কর্মীরা সোহেল খান ও মো. কাউসার নামের কর্মীকে লাঠি ও ইট দিয়ে হাত-পা ও মাথা থেঁতলে দেন।
ভিএক্স পক্ষের নেতা মিজানুর রহমান বলেন, ‘পুলিশ আমাদের ৫০ জন নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে আটক করেছে। তাঁদের যদি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়া হবে।’
সিএফসি ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ পক্ষের নেতা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘তাপসের খুনিরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করায় আমরা তার প্রতিবাদ জানিয়েছি। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কোনো খুনিকেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’
শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণে জড়িত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে কাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষক সমিতি।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন