গোপন বুথে ঢুকে পড়লেন আ.লীগের এজেন্ট

বিজ্ঞাপন
default-image

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের চার নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্র মাদারটেক আব্দুল আজিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এই কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন। ৮৬ নম্বর কেন্দ্রের একটি বুথে দেখা গেল, জাহাঙ্গীর হোসেনের এজেন্ট ওমর ফারুক গোপন বুথে ঢুকে পড়েছেন। তখন গোপন বুথে ভোট দিচ্ছিলেন নারী ভোটার।

এ ব্যাপারে এজেন্ট ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ওই নারীকে ভোট দিতে সহায়তা করার জন্যই তিনি গোপন বুথে ঢুকে পড়েন। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মফিজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, গোপন বুথে ঢোকার অনুমতি কারও নেই।

বুথের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নিষেধ করা সত্ত্বেও ওমর ফারুক গোপন বুথে ঢুকে পড়েন।

কেবল ৮৬ নম্বর কেন্দ্রে নয় মাদারটেক আব্দুল আজিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবস্থিত ৯০ নম্বর কেন্দ্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। এজেন্ট না হয়েও আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থিত একজন গোপন বুথে ঢুকে পড়েন। তখন ওই বুথের দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেনের কর্মীকে গোপন বুথে না ঢোকার জন্য বারবার অনুরোধ করছিলেন। তারপরও তিনি গোপন বুথে ঢুকে পড়েন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের চার নম্বর ওয়ার্ডের এই কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী হলেন গোলাম হোসেন। তাঁর ধানের শীষের এজেন্ট প্রথম আলোর কাছে অভিযোগ করেন, এর আগে আরও একবার জাহাঙ্গীর হোসেনের লোকজন গোপন বুথে ঢুকে তাঁর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে সহায়তা করেছেন।

গোপন বুথে ঢুকে পড়ার এই অভিযোগের ব্যাপারে ৯০ নম্বর কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, কারও গোপন বুথে ঢুকে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে সহায়তা করার কোনো নিয়ম নেই। বাইরের লোকজন ঢোকার তো প্রশ্নই আসে না। তিনি বিষয়টি দেখছেন।

ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের চার নম্বর ওয়ার্ড থেকে গতবার ধানের শীষের প্রার্থী গোলাম হোসেন নির্বাচিত হন।

default-image

মাদারটেক আব্দুল আজিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিভিন্ন ভবনের কেন্দ্র রয়েছে। ছয়টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ হাজার ২০৪। আজ শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ছয়টি কেন্দ্রে দুই ঘণ্টার ব্যবধানে ভোট পড়েছে ৭৩৮টি। শতকরা হিসেবে সকাল ৮টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ৬ শতাংশ ভোটার এই স্কুলটিতে ভোট দিয়েছেন।

সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত মাদারটেক আব্দুল আজিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবস্থান করে দেখা গেল, স্কুলটির মাঠে ভোটারের সংখ্যা কম। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেনের লোকজন বেশি। স্কুলটির সামনেও জাহাঙ্গীর হোসেনের কর্মীরা অবস্থান নেন।

মাদারটেক আব্দুল আজিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাড়াও শহীদ জিয়া বাসাবো উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেনের এজেন্ট দেখা যায়নি। তবে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ–মনোনীত মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের এজেন্ট রয়েছেন। কেন্দ্রগুলো সামনে ও ভেতরে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের স্টিকার ঝুলিয়ে তাঁদের লোকজন ঘুরছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন