কুড়িগ্রামের উলিপুর হাট ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে পছন্দের ব্যক্তিকে হাটের ইজারা পাইয়ে দেওয়া হয়। গতকাল রোববার বিকেলে স্থানীয় প্রেসক্লাবে এসে দরপত্র জমা দিয়েও ইজারাবঞ্চিত ব্যবসায়ী আবদুল মালেক এ অভিযোগ করেন।
ব্যবসায়ী আবদুল মালেক অভিযোগ করেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি উলিপুর পৌরসভা হাটের দরপত্র ডাকা হয়। একাধিক শিডিউল বিক্রি হলেও হঠাৎ করে গত ২৮ ফ্রেরুয়ারি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সব দরপত্র বাতিল দেখায় কর্তৃপক্ষ। দ্বিতীয় দফায় ১৬ মার্চ ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ইজারা বিজ্ঞপ্তির ৮ নম্বর শর্তে উল্লেখ আছে, ‘দরপত্রে দাখিলকৃত দর অঙ্কে ও কথায় লিখতে হবে। ঘষামাজা/অস্পষ্ট/কাটাকাটি হওয়া দরপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।’ কিন্তু দরপত্র কমিটি ৮ নম্বর শর্ত খেলাপ করে তাদের পছন্দের ব্যবসায়ী আবদুর রহমানের দরপত্রটি তালিকাভুক্ত করে। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ওই ব্যবসায়ীর দরপত্র গ্রহণ করা হয়। অথচ তাঁর দরপত্রে উল্লেখ করা দরে কথায় ও অঙ্কে গরমিল ছিল। তিনি আরও বলেন, আবদুর রহমানের দরপত্রে টাকার অঙ্কে ১০০০৭০০০.০০ লেখা ছিল। কিন্তু কথায় টাকার অঙ্ক লেখা ছিল ‘এক কোটি সাত লাখ’।
আবদুল মালেক অভিযোগ করেন, এই টেন্ডার জালিয়াতির সঙ্গে দরপত্র কমিটি সরাসরি জড়িত। উদ্ধৃত দরের ৩০ শতাংশ টাকার ব্যাংক ড্রাফট জমা দেওয়ার কথা থাকলেও আবদুর রহমানের ব্যাংক ড্রাফটটি করা হয়েছে অনেক বেশি টাকার। যাতে পরে সর্বোচ্চ দরদাতার তথ্য গোপনে জেনে তার চেয়েও বেশি দর উল্লেখ করা যায়, সেই সুযোগ রাখতেই এ ধরনের ব্যাংক ড্রাফট করা হয় বলে ব্যবসায়ী মালেক উল্লেখ করেন। এদিকে তাঁর (আবদুল মালেক) ফেলা দরপত্র থেকে দর জেনে ৭ হাজার টাকা বেশি লিখতে গিয়ে তাড়াহুড়ায় আবদুর রহমান নিজের দরপত্রে উল্লেখ করতে গিয়ে অঙ্ক ও কথায় টাকার পরিমাণে গরমিল করে ফেলেন।
আবদুল মালেক বলেন, ‘আমার উদ্ধৃত দর ছিল ১ কোটি ১ হাজার টাকা। আমার চেয়ে ৭ হাজার টাকা বেশি লিখতে গিয়ে এই গরমিল করে ফেলেন আবদুর রহমান। এদিকে দরপত্র খোলার নির্ধারিত সময় বেলা ৩টা নির্ধারণ করা থাকলেও তা খোলা হয় বিকেল সাড়ে ৫টায়। এর আগে বেলা ২টায় দরপত্র জমাদান শেষে রহস্যজনকভাবে পৌর কর্তৃপক্ষ সবাইকে কৌশলে সরিয়ে দিয়ে কার্যালয়ের কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেন।’
ইজারায় অংশ নেওয়া লোকজন অভিযোগ করেন, এ সময় দরপত্র কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম প্রকৃত সর্বোচ্চ দরদাতা আবদুল মালেকের ফেলা দরপত্রে উদ্ধৃত দর জেনে নেন। এরপর কুড়িগাম অফিসে ফেলা আবদুর রহমানের দরপত্রে ফাঁকা রাখা দরের চেয়ে ৭ হাজার টাকা বেশি লিখতে গিয়ে তাড়াহুড়ায় ওই গরমিল হয়ে যায়।
এদিকে দরপত্র খুলে দর উল্লেখের সময় এই গরমিল ধরা পড়ে। দরপত্রে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী ও উপস্থিত ব্যক্তিরা দরপত্র খোলার সময় আবদুর রহমানের ত্রুটিপূর্ণ দরপত্রটি ইনফরমাল বা বাতিল হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে বলেন। কিন্তু দরপত্র কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী আলম দরপত্রের কোনো শর্ত ও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে আবদুর রহমানকে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেন।
দরপত্র কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘টাকার অঙ্ক কথায় ও অঙ্কে গরমিল হলেও কথায় লেখাটিতে যেহেতু টাকার পরিমাণ বেশি, তাই সেটাকেই সঠিক বলে ধরে নেওয়া হবে। এটা ছোটখাটো অনিয়ম। যেহেতু টাকার পরিমাণ বেশি, এতে পৌরসভার রাজস্ব বেশি হবে।’
পৌর মেয়র তারিক আবু আলা বলেন, ‘অনিয়ম হলেও যেহেতু কথায় টাকার পরিমাণ বেশি আছে তাই আমরা সেটাই সঠিক বলে ধরে নিচ্ছি।’
উলিপুর হাটের ইজারার জন্য ডাকা দরপত্রে মোট তিনজন ব্যবসায়ী অংশ নেন। এর মধ্যে উলিপুর পৌরসভা কার্যালয়ে দুটি দরপত্র দাখিল হলেও আবদুর রহমান নামের দরপত্রটি কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা পড়ে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন