দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ঘোড়াঘাট ইউনিয়নের কুন্দারামপুর গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত মজিদুল ইসলাম (৩০) গতকাল রোববার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত শনিবার দুপুরে এলাকার এক মসজিদের ইমামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের দায়ের করা মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হন।
পুলিশ জানায়, মজিদুল কুন্দারামপুর গ্রামের আবু মিয়ার ছেলে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত আবু মিয়া রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিরা হলেন বকুল মিয়া, গোলাম মোস্তফা, মনোয়ার হোসেন, এরশাদ, তারা মিয়া, মামুন মিয়া ও ইয়াছিন আলী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কুন্দারামপুর জামে মসজিদের ইমাম এন্তাজ আলী বেশ কিছুদিন থেকে অনিয়মিতভাবে মসজিদে নামাজ পড়াচ্ছিলেন। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে মসজিদের সভাপতি আফজাল হোসেন বৃহস্পতিবার এশার নামাজের পর এক বৈঠকে ইমামকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
শুক্রবার বিকেলে গ্রামের তিন মাথার মোড়ে ইমামকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মনিরুল ইসলাম ও তারা মিয়ার মধ্যে কথা-কাটাকটি হয়। একই ঘটনায় শনিবার সকালে ওই দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে তারা মিয়ার বাবা বকুল মিয়া, চাচা গোলাম মোস্তফাসহ কয়েকজন এবং আবু বক্করের ছেলে মনি মিয়া ও মোসলেম প্রধানের ছেলে আরিফ হোসেন লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে মনিরুলকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় তাঁরা মজিদুলকে দেখতে পেয়ে হামলা চালান। এ খবর পেয়ে মজিদুলের পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মজিদুলের বাবা আবু মিয়া, জামাল উদ্দিন, আবু তাহের ও এমদাদুলকেও জখম করে পালিয়ে যায়। এ সময় গ্রামবাসী গুরুতর আহত অবস্থায় ওই পাঁচজনকে ঘোড়াঘাট হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে মজিদুল ও আবু মিয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল ভোরে মজিদুল মারা যান।
থানায় আটক গোলাম মোস্তফা ও বকুল মিয়া দাবি করেন, ইমামকে বাদ দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করলে জামাল উদ্দিনের পরিবারের লোকেরা তাঁদের ওপর হামলা করে গোলাম মোস্তফা ও তারা মিয়াকে পিটিয়ে আহত করেছেন। এ ঘটনায় গত শনিবার রাতেই গোলাম মোস্তফা সাতজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। জামাল উদ্দিনের লোকজনের লাঠির আঘাতেই মজিদুল আহত হয়েছেন বলে তাঁরা দাবি করেছেন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন