বিজ্ঞাপন

আদালত সূত্র জানায়, রিমান্ড শুনানির সময় সাহেদ আদালতের কাছে অনুমতি নিয়ে কিছু কথা বলেন। ওই সময় তিনি চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৯১ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে কিছু টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর রিমান্ড নামঞ্জুরের প্রার্থনা করেন।

গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় সাহেদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন মো. সাইফুদ্দিন মহসীন (৫৫)। তাঁদের প্রতিষ্ঠান গাড়ির টায়ার ও যন্ত্রাংশ আমদানির মাধ্যমে দেশে বাজারজাত করে। সাহেদের বিরুদ্ধে নগদ ৩২ লাখ এবং চেকের মাধ্যমে ৫৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে মামলাটি করা হয়। ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে মো. সাহেদ টাকাগুলো হাতিয়ে নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলার বাদী মেসার্স মেগা মোটরসের মালিক জিয়া উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের পক্ষে তাঁর চাচাতো ভাই মো. সাইফুদ্দিন মহসীন। সাইফুদ্দিনও এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা দেখভাল করেন। প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানাধীন ধনিয়ালাপাড়ায়। তাঁদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায়।

মো. সাইফুদ্দিন মহসীন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের ঢাকার ব্যবসায়িক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শহীদুল্লাহর মাধ্যমে মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের সঙ্গে ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফেনীর ছাগলনাইয়ায় একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিচয় হয়। সেখানে নানা ধরনের ব্যবসায়িক কাজের জটিলতা খুলে দিতে পারবেন বলে সাহেদ প্রতিশ্রুতি দেন। এ রকম একটি কাজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেদিন থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে ৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন সাহেদ।

পুলিশ সূত্র জানায়, রাজধানীতে ২০০টি তিন চাকার গাড়ি নামানোর অনুমোদন সরকার থেকে নিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মো. সাহেদ। একটি অনুমোদনও নিয়ে দেন সাহেদ, যা ছিল ভুয়া। এরপর টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সাহেদকে চাপ দেওয়া হয়। সাহেদ প্রভাব খাটিয়ে উল্টো ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। এ কারণে মেসার্স মেগা মোটরসের মালিকপক্ষ পিছু হটে।

গত ৬ জুলাই বিভিন্ন অনিয়মের কারণে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এরপর সাহেদ পালিয়ে যান। ১৫ জুলাই সাহেদকে সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাঁকে হেলিকপ্টারে করে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় আনা হয়।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন