এরপর গতকাল রাত ১১টার দিকে ফরিদের বোন রাশেদা আক্তার ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় তিনি ১০ থেকে ১২ জনের নাম উল্লেখ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আসামিদের মধ্যে আলাউদ্দিন আলো নামের একজন রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ফরিদের স্ত্রী নাহিদা আক্তার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, পাহাড়তলী কাঁচাবাজারের পাশে রেলের কিছু জায়গা ফরিদের ভোগদখলে ছিল। এই জমি তিনি রেল থেকে ইজারা নিয়েছিলেন। ইজারার কাগজপত্রও আছে। ওই জায়গায় ছয়টি দোকান তৈরি করেছিলেন ফরিদ। এ জন্য এলাকার আলোসহ কয়েকজন তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

কিন্তু ফরিদ চাঁদা দিতে চাননি, তাই তাঁকে খুন করা হয়েছে। তবে নাহিদার অভিযোগের বিষয়ে আলোর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানা যায়, পাহাড়তলী কাঁচাবাজার এলাকায় রেলওয়ের জায়গা দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ আসছিল। এর আগে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি নগরের পাহাড়তলী বাজারে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় উপশিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক মহিউদ্দিন সোহেলকে কুপিয়ে ও গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন।

এ ঘটনায় সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সাবের আহাম্মেদসহ ৫২ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। ফরিদ হত্যা মামলার আসামি আলো ও দিদার ওই হত্যা মামলারও অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি।

জানা গেছে, মহিউদ্দিনকে খুনের পর তাঁর দখল করা জায়গায় ছয়টি দোকান নির্মাণ করেন ফরিদ। সেখানে একটি গাড়ি ওয়াশের দোকানও দেন তিনি। সেই জায়গা দীর্ঘদিন ধরে দখল করার চেষ্টা করে আসছেন আলো ও তাঁর অনুসারীরা। তাঁরা চাঁদাও দাবি করেন ফরিদের কাছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, দিদারুল ও আলো নিজেদের যুবলীগ নেতা পরিচয় দেন। তাঁরা চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

জানতে চাইলে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেম ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাতে মামলা হয়েছে। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন