চাঁদপুর সদর উপজেলায় গত রোববার রাতে ইকবাল হোসেন (৪৮) ও মমতাজ বেগম (৪৩) নামের দুই ব্যক্তি খুন হয়েছেন।
জামাতা তাঁদের কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে গতকাল সোমবার জামাতা সুমন শেখকে (৩০) এলাকাবাসী পিটিয়ে হত্যা করে।
এলাকার অন্তত চারজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের কামরাঙা গ্রামের শারমিন আক্তারের সঙ্গে বরিশালের সুমন শেখের বিয়ে হয়। শারমিনের এক বোন বরিশাল থাকতেন।
সেই সুবাদে শারমিনের সঙ্গে সুমনের পূর্বপরিচয় ছিল। ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুমন প্রায়ই শারমিনকে নির্যাতন করত।
সুমন বেকার ছিল। তাদের ঘরে একটি কন্যাসন্তান (৩) রয়েছে। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শারমিন বাবার বাড়িতে চলে আসেন। শারমিন স্বামীকে তালাক দেওয়ার প্রস্তুতিও নেন। কিন্তু সুমন তাতে রাজি ছিল না।
গত রোববার রাতে সুমন বরিশাল থেকে শ্বশুরবাড়ি আসেন ও তালাকের বিষয় নিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্ত্রীর সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে সুমন উত্তেজিত হয়ে একটি ধারালো কিরিচ দিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কোপায়। এতে ঘটনাস্থলেই শ্বশুর ইকবাল নিহত হন। এ সময় আহত ব্যক্তিদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সুমন পালিয়ে যায়।
পরে গুরুতর আহত শাশুড়ি মমতাজকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা নেওয়ার পথে তিনি গতকাল সকালে মারা যান।
তবে গুরুতর আহত শারমিন হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন। খবর পেয়ে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কামরাঙা গ্রামের এক ধানখেতে সুমনকে লুকিয়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েক হাজার লোক সেখানে জড়ো হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা পিটিয়ে সুমনকে হত্যা করে।
রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, ইকবাল ও মমতাজের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ কয়েক হাজার জনতা গতকাল সন্ধ্যায় সুমনকে পিটিয়ে হত্যা করে।
চাঁদপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিচুল হক জানান, ইকবাল ও মমতাজের হত্যার ঘটনায় গতকাল থানায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন সুমনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন