বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম ওরফে বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে ছাত্রলীগের আরও তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় রেজাউলকে তাঁর তিন সহযোগীসহ নগরের সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ এলাকা থেকে আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশ।
গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন আ ন ম হাফিজ, এইচ এম হাফিজুল ইসলাম ও রুবেল ব্যাপারী। তাঁরা ছাত্রলীগের কর্মী এবং বাপ্পির সহযোগী।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রেজাউল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা কলেজের অধ্যক্ষ সচিন কুমার রায়ের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং তাঁকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা চালান।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে কলেজের অধ্যক্ষকে শাসানো, লাঞ্ছিত করা এবং চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে তিন সহযোগীসহ শনিবার রাতে আটক করা হয়। রাতেই কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল রোববার তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অধ্যক্ষ সচিন কুমার রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা পুলিশের কাছে বাপ্পির সব অপরাধের কথা বলেছি। চাঁদা দাবির কথাও বলেছি।’
অধ্যক্ষ বলেন, রেজাউল ইসলামের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে অনেক আগে। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠান সম্পর্কে না জানার কারণেই রেজাউল তাঁর (অধ্যক্ষ) ওপর চড়াও হন। গত বৃহস্পতিবার রেজাউল প্রথম আলোর কাছে স্বীকার করেন, তাঁর ছাত্রত্ব নেই। তবে কলেজে নতুন কমিটি না হওয়ায় তিনি দলীয় অনুষ্ঠানে খবরদারি করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন