চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার জমিনপুর সীমান্তে গতকাল শুক্রবার ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে সোলেমান আলী (২৫) নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তিনি জমিনপুর গ্রামের এজাবুল হকের ছেলে।
এদিকে পঞ্চগড়ের বড়শশী সীমান্তের ভারতীয় অংশে এরশাদ আলী (৩০) নামের এক বাংলাদেশির লাশ পাওয়া গেছে। বিএসএফ বা ভারতীয় নাগরিকেরা তাঁকে হত্যা করেছে বলে পরিবার অভিযোগ করেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু জাফর শেখ মোহাম্মদ বজলুল হকের ভাষ্য, সোলেমান আলী চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। গতকাল ভোর পাঁচটার দিকে জমিনপুরের ১৭৯ নম্বর সীমানা পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফের গুলিতে মারা যান তিনি। সকালে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিজিবি তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে পতাকা বৈঠকে বিএসএফ হত্যাকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
এদিকে গতকাল দুপুরে পঞ্চগড়ের বড়শশী ইউনিয়নের সর্দারপাড়া সীমান্তের মেইন পিলার ৭৮০ এলাকার ভারতীয় অংশে (বনগ্রাম এলাকা) এরশাদ আলীর লাশ পাওয়া যায়। তাঁর বাড়ি জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের প্রামাণিকপাড়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
গতকাল বিকেলে বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকে এরশাদ আলীর লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এলাকাবাসী ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে এরশাদ আলী নিখোঁজ ছিলেন। তবে গতকাল দুপুরে তাঁর ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। তাঁর মাথায় ও হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিএসএফের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, তিনি একজন চিহ্নিত চোরাকারবারি। তাঁর দলের সদস্যরা তাঁকে ভারতে নিয়ে হত্যা করেছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন