বগুড়ায় নাশকতা প্রতিরোধ কমিটির সদস্যের নার্সারির প্রায় পাঁচ হাজার আম ও লিচুর চারাগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার সদরের মহাস্থানগড়সংলগ্ন ছোট ধাওয়াকোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নার্সারির মালিক মোখলেছার রহমান অভিযোগ করেন, গোকুল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এই নাশকতা চালানো হয়। কলম করা এসব চারার বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।
ধাওয়াকোলা এলাকায় তুহিন নার্সারিতে গিয়ে দেখা গেছে, ৩৮ শতক জমিতে স্থাপিত ফলদ নার্সারিতে বিক্রির জন্য রাখা আম ও লিচুর কয়েক হাজার কলম চারা গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া নার্সারিতে লাগানো বেশ কয়েকটি গাছও গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়েছে।
অবরোধ শুরুর পর থেকেই ওই নেতা সদরের গোকুল ইউনিয়নের গোকুল এলাকায় নাশকতা চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। গোকুল মধ্যপাড়া গ্রামের স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের গোকুল ও মহাস্থানগড় এলাকায় যানবাহনে পেট্রলবোমা হামলাসহ ব্যাপক নাশকতা চালানো হচ্ছিল। এসব ঠেকাতে গোকুল মধ্যপাড়া গ্রামের লোকজন রাতে মহাসড়ক পাহারা দিতে শুরু করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাশকতাকারীরা গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে এই এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমানের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়। ওই ঘটনায় মিজানুর রহমানকে প্রধান আসামি করে বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলা ছাড়াও মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নাশকতার ঘটনায় প্রায় দুই ডজন মামলা রয়েছে বলে সদর থানা-পুলিশ জানায়।
আওয়ামী লীগের নেতা আবদুর রহিম বলেন, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ডেকে এনে এসব নাশকতা চালাচ্ছিলেন মিজানুর রহমান। পরে গ্রামবাসী একজোট হয়ে নাশকতা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে। এর পর থেকেই কমিটির সদস্যদের নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন মিজানুর। প্রতিরোধের মুখে গ্রামে ঢুকতে না পেরে শনিবার রাতে কমিটির সদস্য মোখলেছার রহমানের নার্সারিতে তাণ্ডব চালান মিজানুর ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা।
অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানুর রহমান বলেন, ‘অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকেই গ্রামের বাসিন্দা জেলা যুবলীগের নেতা আমিনুল ইসলাম রাজনৈতিক খেলায় মেতে ওঠেন। প্রতিদিনই গ্রামের নিরীহ লোকজনকে নাশকতার মামলা দিয়ে, গ্রেপ্তার করে হয়রানি করছেন। দেড় মাস ধরে আমি আত্মগোপনে আছি। অথচ হামলা হলে, নাশকতা হলেই আমাকে জড়িয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছে। নার্সারির গাছ কেটে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’
আমিনুল ইসলাম বলেন, অবরোধ শুরুর পর থেকেই মহাস্থান ও গোকুল এলাকায় যানবাহনে পেট্রলবোমা ও ককটেল বোমা হামলা চালিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছেন মিজানুর। তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অথচ পুলিশ তাঁকে ধরতে পারছে না।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, মিজানুর আত্মগোপনে থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। নার্সারির মালিক মোখলেছারের সঙ্গে মিজানুরের ঝামেলা রয়েছে। এ কারণে নার্সারির চারা কাটার সঙ্গে তিনি জড়িত থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন