ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার দুই স্থানের সংঘর্ষের ঘটনায় গত দুই দিনে একজন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছেন। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে গতকাল শনিবার সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছে। সিলেটের বিশ্বনাথে সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): উপজেলার দুই স্থানের সংঘর্ষের ঘটনায় গত দুই দিনে একজন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির নাম নুরুল হক (৩৫)। তাঁর বাড়ি সরাইল উপজেলার আতকাবাজার গ্রামে।পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আরিজ মিয়ার সঙ্গে আতকাবাজার গ্রামের রাহিম মিয়ার কয়েক মাস ধরে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে রাহিম মিয়ার ছোট ভাই নুরুল হকসহ (৩৫) উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। ঘটনার পর নুরুল হককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গতকাল বেলা তিনটার দিকে নুরুল হক মারা যান। এ খবর পেয়ে রাহিম মিয়ার পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা সদরের মৌগলটুলা ও হালুয়াপাড়া গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী আরশাদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
নান্দাইল (ময়মনসিংহ): ঈশ্বরগঞ্জে নিহত ব্যক্তির নাম আবদুল হক (৫৫)। তিনি উপজেলার ভাটি চরনওপাড়া এলাকার বাসিন্দা।এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মনসুর আলী তাঁর লোকজনের সঙ্গে আবদুল হক ও তাঁর ছেলেদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় মনসুরের পক্ষের লোকজনের হামলায় আবদুল হক ও তাঁর চার ছেলে আহত হন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল হক মারা যান। তাঁর তিন ছেলে মো. শরাফত আলী, মারফত আলী ও খোকা মিয়া গুরুতর আহত হয়ে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাঁর অপর ছেলে আমির হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে এক পক্ষের লোকজন হতাহত হওয়ার তথ্য মিললেও অপর পক্ষের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মামলা হয়নি।
ভৈরব: অষ্টগ্রাম থানা-পুলিশ জানায়, আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আব্দুল্লাহপুর গ্রামের সোলেমান ব্যাপারী ও নতুন বাজার বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে নতুন বাজারের একটি ভূমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ওই ঘটনার সূত্র ধরে গতকাল শনিবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও পরে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বল্লমের আঘাতে ঘটনাস্থলেই জিলাল আহমেদ নিহত হন। আহত হন ১২ জন। আহত ব্যক্তিদের অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। জিলাল উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পূর্ব মধ্যপাড়া গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।
বিশ্বনাথ (সিলেট): বিশ্বনাথে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যান, পুলিশ, শিশু, নারীসহ ৫০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বিশ্বনাথ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন, এএসআই মাসুদ আলম, রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার খান, রামপাশা গ্রামের ইসলাম উদ্দিন, ফয়জুন নূর এবং কাদিপুর গ্রামের শানুর আলী, ইমন আহমদ (১০), দিলারা বেগম, সুফিয়া বেগম, আবদুস সত্তারসহ ৫০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কাদিপুর গ্রামের আবদুল হক, হাফছা বেগম, আফিয়া বেগম ও মানিক মিয়াকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে রামপাশা গ্রামের তোরন মিয়া তাঁর বোন হাফছা বেগমকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। এ সময় একটি ইনজেকশনের প্রয়োজন পড়লে তোরন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের কাদিপুর গ্রামের শানুর আলীর ওষুধের দোকানে যান। এ সময় ইনজেকশনের দাম বেশি চাওয়ায় শানুর ও তোরনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে শানুর তাঁর লোকজন নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এসে তোরন ও তাঁদের লোকজনের ওপর হামলা চালান। তোরন একপর্যায়ে মুঠোফোনে তাঁর গ্রামের লোকজনকে বিষয়টি জানান। এতে রামপাশা গ্রামের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে কাদিপুর গ্রামের লোকজনের ওপর হামলা চালান। এ সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কাদিপুর গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিরোধ গড়ে তুললে সংঘর্ষ বেধে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শটগান দিয়ে তিনটি গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ওই গুলিগুলো উপজেলার কাদিপুর গ্রামের আবদুল হকের ডান পায়ে বিদ্ধ হয়। সংঘর্ষের সময় কমপ্লেক্সের সামনে নির্মিত কাদিপুর গ্রামের শানুর আলী, আবদুল হকের দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হোসেন বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0