চুরি হওয়ার এক দিন পর গতকাল শনিবার রাজধানীর শাহবাগের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে শারমিন আক্তার নামের ১১ মাসের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, শাহ আলী থানা এলাকার একটি বাসা থেকে শিশুটিকে চুরি করে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন সুলতানা বেগম (২১) নামের এক নারী। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে।
গতকাল বেলা একটার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মচারীদের কোয়ার্টারের পাশে শৌচাগারের উপকরণের ভেতর শিশুটির লাশ পাওয়া যায়। গলায় ছিল লালচে ও খামচির দাগ।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষ করার পর শাহ আলী থানার মাধ্যমে জানতে পারি, মিরপুর ১ নম্বরের দক্ষিণ বিশিলের ৫ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে ওই শিশুটিকে চুরি করা হয়েছে। বিকেলে শাহ আলী থানার পুলিশ সুলতানা ও ওই শিশুটির বাবা বিল্লাল হোসেনকে শাহবাগ থানায় নিয়ে আসে।’
বাসচালক বিল্লাল প্রথম আলোকে বলেন, দুই সপ্তাহ আগে মিরপুরের শাহ আলী মাজারে তাঁর স্ত্রী সেতু আক্তারের সঙ্গে সুলতানার পরিচয় হয়। ওই দিন সুলতানার অনুরোধে সেতু তাঁকে বাসায় আশ্রয় দেন। কিন্তু আর্থিক টানাপোড়েনে আরেকজনকে বেশি দিন আশ্রয় দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই চার দিন আগে সুলতানাকে বের করে দেওয়া হয়। তবু তিনি বাসার আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন। গত শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে শারমিন নিখোঁজ হলে সুলতানাকে সন্দেহ করেন তিনি। গতকাল সকালে সুলতানা শাহ আলী মাজারে এলে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। সুলতানা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, শিশু শারমিনকে বাসা থেকে নিয়ে তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিয়ে গেছেন। বিল্লালের অভিযোগ, বাসা থেকে বের করে দেওয়ায় সুলতানা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর সন্তানকে চুরি করে হত্যা করেছেন।
এ ঘটনায় বিল্লাল সুলতানার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।
শাহবাগ থানায় সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর গ্রামের বাড়ি সিলেটে। দুই সপ্তাহ আগে তিনি চাকরির জন্য ঢাকায় আসেন। তিনি দাবি করেন, শিশুটিকে ঘোরানোর জন্য তিনি সকালে উদ্যানে আনেন। রাত আটটার দিকে বাচ্চাটিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুয়ে থাকা দুই ব্যক্তির পাশে রেখে তিনি শাহ আলী মাজারে চলে যান।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সুলতানা বলেন, বিল্লালের বাসা থেকে বের করে দেওয়ার পর শাহ আলী মাজারকে সাক্ষী রেখে সাইফুল ইসলাম নামের এক যুবককে বিয়ে করেন তিনি। এরপর সাইফুলের সঙ্গে তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই থাকা শুরু করেন। এ কারণেই ওই শিশুটিকে উদ্যানেই নিয়ে গিয়েছিলেন সুলতানা।
পুলিশ সুলতানার কথিত স্বামী সাইফুলকেও থানায় নিয়ে আসে। সাইফুল বলেন, কখন সুলতানা ওই শিশুটিকে উদ্যানে নিয়ে এসে এ কাণ্ড ঘটালেন, তার কিছুই জানেন না তিনি। কয়েক দিন তিনি কাজের কারণে অন্যত্র ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন