default-image

চুয়াডাঙ্গায় কৃষক লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল রোববার রাতে সদর হাসপাতাল চত্বরে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের রাতেই ঢাকায় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতালে) নেওয়া হয়েছে।

আহত দুজন হলেন জেলা কৃষক লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মহসীন রেজা (৫০) ও জেলা ছাত্রলীগের (প্রস্তাবিত কমিটির) সহসভাপতি শোয়াইব রিগান (২৪)। সম্পর্কে তাঁরা আপন মামা-ভাগনে। দুজনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের মাঝেরপাড়ায়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত বাবা আজম আলীকে দেখতে গেলে দুর্বৃত্তরা শোয়াইবকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে জখম হন মহসীন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ কাউকে আটকও করতে পারেনি।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ বলেন, ‘যত দূর জেনেছি, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে দুর্বৃত্তরা ছাত্রলীগ নেতা শোয়াইবের ওপর হামলা চালায় এবং তাঁকে ঠেকাতে গিয়ে মামা কৃষক লীগ নেতা মহসীন জখম হন।’
জেলা কৃষক লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক জোয়ারদার বলেন, ‘হামলাকারীরা যে-ই হোক, তাদের ধরে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দাবি জানাচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, ছাত্রলীগ নেতা শোয়াইবের বাবা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত আজম আলী চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবাকে দেখতে শোয়াইব রাত ১১টার দিকে সেখানে যান। হাসপাতাল পুরোনো ভবন এলাকায় অবস্থানকালে একদল দুর্বৃত্ত সেখানে শোয়াইবকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। শোয়াইবকে মারতে দেখে তাঁর মামা মহসীন রেজা ছুটে গেলে দুর্বৃত্তরা তাঁকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। উপস্থিত লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়।

হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের পরামর্শক (কনসালট্যান্ট) ওয়ালিউর রহমান বলেন, হামলায় শোয়াইবের বাঁ হাত ও মহসীনের ডান হাতের হাড় কেটে গেছে। এ ছাড়া দুজনেরই সারা শরীরে অসংখ্য কোপের দাগ রয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, গত বছরের ১৯ জুলাই দুর্বৃত্তের হামলায় শোয়াইব আহত হন। ওই ঘটনায় শোয়াইব তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী শাকিল আহমেদকে সন্দেহ করতেন। চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি দুর্বৃত্তরা শাকিল আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে। এসব নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। পূর্ববিরোধের জের ধরে এ হামলা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য পড়ুন 0