নবম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম (৪৫) এবং আইনজীবী হারুনুর রশীদের (৩৫) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত শনিবার রাতে ওই ছাত্রীর বাবা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় এ মামলা করেন।
খোরশেদ আলম গুনাইঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাও। আর হারুন উপজেলার ধামতী গ্রামের বাসিন্দা ও কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সদস্য।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা যায়, ২৪ ডিসেম্বর বেলা তিনটায় তাঁর স্ত্রী নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া বড় মেয়ে ও প্রতিবন্ধী ছোট মেয়েকে (১০) নিয়ে কুমিল্লায় চিকিৎসকের কাছে যান। সন্ধ্যায় ফেরার পথে নগরের কান্দিরপাড় এলাকায় চেয়ারম্যান খোরশেদের সঙ্গে দেখা হয়। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান এক রিকশায় তিনজন যাওয়ার দরকার নেই বলে কিছুটা জোর করেই বড় মেয়েটিকে নিজ রিকশায় তুলে নেন। এরপর ছোট মেয়েকে নিয়ে মা শাসনগাছা বাস টার্মিনালে এসে চেয়ারম্যানকে ফোন দেন। তখন চেয়ারম্যান যানজটে আটকা পড়েছেন বলে জানান। এরপর তিনি মুঠোফোন বন্ধ করে দেন।
রাত আটটার দিকে বড় মেয়ে মায়ের মুঠোফোনে ফোন করে তাকে বাঁচাতে বলে। দ্রুত দেবীদ্বার থানার ওসি মিজানুর রহমানকে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি ফোন দিলে চেয়ারম্যান দেবীদ্বারে একটি বৈঠকে আছেন বলে দাবি করেন। এরপর কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ্ কামাল আকন্দ মুঠোফোন ট্র্যাক করে চেয়ারম্যান কুমিল্লা নগরের চকবাজার এলাকায় আছেন বলে জানতে পারেন। ওই দিন দিবাগত রাত তিনটার দিকে বাসায় ফেরে মেয়েটি।
ধর্ষণের শিকার মেয়েটির মা বলেন, হত্যার হুমকি দিয়ে আইনজীবী হারুনের সহায়তায় চকবাজার এলাকায় একটি ঘরে তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ করেন চেয়ারম্যান। বর্তমানে মামলা না করতে ও পাঁচ লাখ টাকায় আপসের প্রস্তাব দিচ্ছেন খোরশেদ।
অভিযোগ অস্বীকার করে গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে চেয়ারম্যান বলেন, ‘মেয়েটির মা আমার পরিচিত।’ কিন্তু পুলিশের কাছে নিজের অবস্থান সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার বিষয়ে বলেন, ‘আমি দেবীদ্বারেই ছিলাম। সামনে ইউপি নির্বাচন। কেউ হয়তো এটা নিয়ে রাজনীতি করছে।’
ডিবির এসআই শাহ্ কামাল বলেন, মুঠোফোন ট্র্যাকিংয়ে চেয়ারম্যান চকবাজার এলাকায় ছিলেন বলে জানা গিয়েছিল।
আইনজীবী হারুন বলেন, ‘আমি পরিস্থিতির শিকার। চেয়ারম্যান মেয়েটিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে দিতে বলেন। আমি তাই করি। ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না।’
ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার রাতে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেছিলেন, ‘মেয়েটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। শুনেছি মেয়েটি বাড়ি ফিরেছে।’
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খোরশেদ আলম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন